মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯

আরেক মন্ত্রীর পদত্যাগে বিপাকে ট্রুডো সরকার

জেন ফিলপট ও জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: বিবিসির সৌজন্যেজেন ফিলপট ও জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: বিবিসির সৌজন্যেসরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী জেন ফিলপট। তিনি বলেছেন, সরকারের দুর্নীতি তদন্ত পরিচালনার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলায় তিনি পদত্যাগ করছেন। গতকাল সোমবার এ ঘোষণা দেন তিনি। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ট্রেজারি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জেন ফিলপট বলেন, ‘আমাকে অবশ্যই মূল নীতি, নৈতিক দায়িত্ববোধ, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ে অটল থাকতে হবে।’
ফিলপটের পদত্যাগের বিষয়টি জাস্টিন ট্রুডোকে হতাশ করলেও তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচারে সরকারের হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ট্রুডো।
ফিলপট তাঁর পদত্যাগপত্রে বিস্তারিতভাবে লিখেছেন যে এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় হস্তক্ষেপ করার জন্য রাজনীতিবিদেরা সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলকে চাপ দিচ্ছেন—এমন প্রমাণে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এক বিবৃতিতে ফিলপট বলেন, কারও নীতির ওপর কাজ করার জন্য মূল্য দিতে হয়, তবে এর চেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় তাঁদের পরিত্যাগ করার জন্য। তিনি তাঁর চিঠিতে লেখেন, এই মন্ত্রিসভার হয়ে দায়িত্ব পালন একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয় তাঁর জন্য।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে একই ইস্যুতে আইনমন্ত্রী জোডি উইলসন-রেবোল্ড পদত্যাগ করেন।
গত সপ্তাহে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি লিবারেল প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রুডোর জনপ্রিয়তা বেশ কমেছে।
নির্মাণ ও প্রকৌশল খাতে বিশ্বের অন্যতম জায়ান্ট কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে কানাডার লিবারেল পার্টির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লিবিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের ৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়ে বড় কয়েকটি প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসএনসি-লাভালিনের বিচার শুরু হয় ২০১৫ সালে। দুর্নীতির মাধ্যমে ঠিকাদারি পেতে এসএনসি-লাভালিন লিবিয়া সরকারকে ১৩ কোটি মার্কিন ডলার জালিয়াতি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ায় ‘অসদুপায় অবলম্বনের’ অভিযোগে ২০২৩ সালে পর্যন্ত নিজেদের কোনো প্রকল্পে এসএনসি-লাভালিনকে নিষিদ্ধ করে বিশ্বব্যাংক। এসএনসি-লাভালিনকে সাজা না দিতে সরকারি কৌঁসুলিদের নির্দেশ দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে সরকার—এমন অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির মূলোৎপাটনের ঘোষণা দিয়ে ২০১৫ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল লিবারেল পার্টি। আট মাস পরই কানাডায় আবার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এসএনসি-লাভালিন ইস্যুতে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপ জাস্টিন ট্রুডোর দলের জন্য বড় বিপদ হতে চলেছে।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার আগ্রহ প্রকাশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্সমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্সমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি এখন জাপান সফরে রয়েছে। আজ সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ইরান আলোচনা করতে চায়। তারা আলোচনা করতে চাইলে আমরাও আলোচনা করতে চাই।’
চার দিনের সফরে ট্রাম্প গত শনিবার জাপান পৌঁছান। ইরান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখব কী ঘটে। কিন্তু আমি জানি যে প্রধানমন্ত্রী (আবে) ইরান নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কেউই ভয়ংকর কিছু ঘটতে দেখতে চান না, বিশেষ করে আমি।’
ইরান হামলা চালাতে পারে—নিজ দেশের এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শক্তির আস্ফালন চলছে। ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে কাজ করছেন। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করা দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান ফিরে পেতে কাজ করছে দেশটি।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করা ছয়টি দেশের মধ্যে বছরখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদ দূতাবাস থেকে তাদের কয়েকজন কর্মীকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে। ইরানের উদ্দেশে রণতরি নিয়ে লোহিত সাগরের সুয়েজ খালে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন নৌবহর। তবে বরাবরই মার্কিন ওই গোয়েন্দা তথ্যকে ভুয়া বলে দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শাখা দ্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
আর এই আইআরজিসির পার্লামেন্ট–বিষয়ক ডেপুটি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালেহ জোকার যুক্তরাষ্ট্রের রণতরির ওপর সহজেই ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন। বার্তা সংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মোহাম্মদ সালেহ জোকার বলেছেন, ‘এমনকি আমাদের স্বল্প দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্রও মার্কিন রণতরিতে সহজে আঘাত হানতে পারবে। নতুন যুদ্ধের খরচ চালানোর সাধ্য নেই যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটি এখন জনশক্তি ও সামাজিক অবস্থানের দিক দিয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা ‘ফোনের পাশেই বসে রয়েছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে কোনো বার্তা আসছে না ইরানের তরফ থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা অল্প কিছু সাংবাদিককে বলেন, ‘আমরা মনে করি, তাদের (ইরান) সমঝোতায় আসা উচিত।’

জাপান পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্পডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ শনিবার টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন । বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের কর্মকর্তারা। 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিমান হানেদায় অবতরণের ঘণ্টা দুয়েক আগে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প জাপানের রাজধানীর আশপাশের এলাকাকে প্রকম্পিত করে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল জাপানি স্কেলে ৫ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল টোকিওর পাশের চিবা জেলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভূগর্ভের প্রায় ৬০ কিলোমিটার নিচে। সেই এলাকার কাছেই মোবারা শহর অবস্থিত, ট্রাম্প যেখানে আগামীকাল রোববার সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে গলফ খেলবেন।
ট্রাম্পের আজকের অনুষ্ঠান-সূচিতে আছে টোকিওতে জাপানের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক নৈশভোজে মিলিত হওয়া। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল রোববার মূলত গলফ খেলে, সুমো মল্লযুদ্ধ দেখে এবং জাপানি রেস্তোরাঁয় অনানুষ্ঠানিক নৈশ ভোজে অংশ নিয়ে সময় কাটবে তাঁর। সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী আবের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হওয়া ছাড়াও সম্রাটের দেওয়া নৈশ ভোজে যোগ দেবেন।
এই সফর নিয়ে শুরু থেকেই ট্রাম্প আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। টোকিওর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর বিমান থেকে পাঠানো এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাপানের মহামান্য সম্রাটকে সম্মান জানানোর অপেক্ষায় আমি আছি।” এর আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে “জাপানে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সারা বিশ্বের সকল দেশের মধ্যে থেকে একমাত্র আমি যোগ দিতে যাচ্ছি।” জাপানে তিনি তাঁর বন্ধু শিনজো আবের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়ে মতামত বিনিময় করবেন বলেও টুইট বার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।

বিশ্বকাপ মাতাবে ওয়াওয়ের ‘ধুম ধুম’


বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২৯ মে ওয়াও প্লেতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়াও প্লে’র বিশ্বকাপ থিম সং ‘ধুম ধুম’। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ গানের মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলকে উৎসাহ তথা বাংলাদেশের ক্রিকেট তারুণ্য কে আরও উদ্দীপ্ত করাই তাদের ইচ্ছা।
‘ধুম ধুম’ মিউজিক ভিডিওর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌরি সেলিম, ইউটিউব তারকা প্রত্যয় হিরণ এবং শিশু শিল্পী স্পৃহা ও প্রেয়সী। গানটির পরিচালক ঈশান হায়দার বলেন, এ গানে অংশ নিয়েছেন কলকাতায় অনুষ্ঠিত ট্রাই নেশন টি-২০ হুইলচেয়ার ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ডিডিএফ হুইলচেয়ার ক্রিকেট বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন দল। তিনি বলেন ‘আমার বিশ্বাস ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপকে ঘিরে এই গানটি দর্শক জনপ্রিয়তা এ যাবৎ কালের ইউটিউবের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে।’
চার মিনিটের এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী আলভী, বাবলু কবির ও দেবশ্রী অন্তরা রয় চৌধুরী। গানটি লিখেছেন আলিফ প্রভাত। সোমবার ওয়াও প্লে’র স্বত্বাধিকারী এবং কামরুল গ্রুপ এর চেয়ারম্যান কামরুল আহসানের বনানী অফিসে সংগীত শিল্পী আলভী’র সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কামরুল গ্রুপের মার্কেটিং হেড মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ওয়াও প্লে’র নির্বাহী প্রযোজক ঈশান হায়দার, কামরুল গ্রুপের প্রধান ক্রিয়েটিভ গ্রাফিক ডিজাইনার মোঃ সৈকত সবুজ।
এ ব্যাপারে ওয়াও প্লে’র স্বত্বাধিকারী এবং কামরুল গ্রুপের চেয়ারম্যান কামরুল আহসান বলেন, ‘খেলাধুলার মঞ্চে সংগীতের যে প্রভাব ও গুরুত্ব তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে দর্শকদের জন্য একটা পরিচিত সুর প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত এ থিম সং’টা বিশ্বকাপে বাংলাদেশর প্রাণ হয়ে থাকবে।’

সালমান চান, ক্যাটরিনা বিয়ে করুক


সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফবলিউড তারকা সালমান খান আর ক্যাটরিনা কাইফের সম্পর্ক পুরোনো। তাঁরা এককালের সহকর্মী, প্রেমিক-প্রেমিকা আর এখন খুব ভালো বন্ধু। সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ তাঁদের প্রেম নিয়ে প্রকাশ্যে কখনো কিছু বলেননি, কিন্তু তাঁদের আচরণ বলে দিয়েছে, ডুবে ডুবে জল খাচ্ছেন তাঁরা। এভাবে এই জুটির অঘোষিত প্রেমে বুঁদ হয়ে ছিল বলিউড।

রূপকথার সেই প্রেমে রণবীর কাপুর দমকা হাওয়া হয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেলেন রাজকন্যা ক্যাটরিনা কাইফকে। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় সালমান খানের সাজানো বাগান। তারপর হঠাৎ একদিন শোনা গেল, রণবীর নাকি আলিয়া ভাটের প্রেমে মজেছেন আর শুটিংয়ের মাত্র পাঁচ দিন আগে সালমান খানের ‘ভারত’ ছবি ছেড়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ঝোপ বুঝে কোপ মারেন সালমান। ক্যাটরিনার কাছে ‘ভারত’ ছবির প্রস্তাব নিয়ে যান এই সাবেক প্রেমিক। আর তাতে ‘হ্যাঁ’ বলেন সদ্য হৃদয় ভাঙা প্রেমিকা ক্যাটরিনা।


এরপর শুটিং সেটে প্রেমের অভিনয় করতে করতে পুরোনো প্রেম কি জেগে উঠেছে? বলিউডের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ‘হ্যাঁ।’ আর সেসব খবর দেখে সালমান ও ক্যাটরিনা আগের মতোই মুখে কুলুপ এঁটে কেবল মুচকি হাসছেন।

পরিসংখ্যান বলে, পর্দার বাইরে ক্যাটরিনার মুখে সবচেয়ে বেশি হাসি ফুটিয়েছেন সালমান খান। অন্যভাবে বলা যায়, সালমান খান ক্যাটরিনাকে যত খুশি রাখতে পারেন, অন্য কেউ তা পারেননি। আর ক্যাটরিনাকে খুশি দেখে সালমান খান যে কতটা খুশি হন, সেটা বলে দিতে হবে?

পর্দার বাইরে ক্যাটরিনা কাইফের মুখে সবচেয়ে বেশি হাসি ফুটিয়েছেন সালমান খান‘ভারত’ ছবির প্রচারণায় বলিউড হাঙ্গামার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সালমান খান আর ক্যাটরিনা কাইফ। এ সময় উপস্থাপক ফরিদুন শাহরিয়ার সালমান খানের কাছে জানতে চান, ক্যাটরিনা নায়িকা না হলে অন্য কী হতেন? প্রশ্ন শুনে গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসেন সালমান। সালমানকে সাহায্য করতে তখন উপস্থাপক বলেন, ‘প্রোডিউসার?’ তখন পাশ থেকে ক্যাটরিনা জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কিছুই প্রযোজনা করেননি। তখন সালমান খান খুঁজে পান প্রশ্নের উত্তর। বলেন, ‘বিয়ে করে বাচ্চা “প্রডিউস” করা উচিত ক্যাটরিনার।’

এর আগে বলিউডের ভাইজান সালমান খান জানান, তিনি চান, ক্যাটরিনা যেন তাঁকে ‘মেরি জান’ বলে ডাকে। ‘ভারত’ ছবির প্রচারে সালমান খানকে দেখা গেছে ক্যাটরিনার শাড়ি ঠিক করে দিতে। আবার কিছুদিন আগে বাবা হতে চান বলে মনের ইচ্ছা জানিয়েছেন সালমান। তবে কি তিনি ক্যাটরিনার বাচ্চার বাবা হতে চান? জ্ঞানীদের জন্য নাকি ইশারাই যথেষ্ট। সালমান খানের ইশারা নিশ্চয়ই বুঝেছেন ক্যাটরিনা।

ওই সাক্ষাৎকারে বলিউডের অন্য দুই খান শাহরুখ খান ও আমির খান অভিনেতা না হলে কী হতেন, তা-ও জানতে চাওয়া হয় সালমান খানের কাছে। জবাবে সালমান জানান, শাহরুখ খান যেকোনো কিছুই হতে পারতেন। অর্থাৎ সালমানের মতে সবকিছু হওয়ার যোগ্যতা রাখেন শাহরুখ খান। আর আমির খান নাকি যা-ই হতেন, সেখানেই সেরা হতেন। অর্থাৎ যেকোনো পেশাতেই আমির খান তাঁর ‘মি পারফেকশনিস্ট’ সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতেন বলে সালমানের বিশ্বাস।

উপস্থাপক আরও জানতে চান, শাহরুখ নাকি আমির, কার রসবোধ বেশি? এক মুহূর্ত দেরি না করে সালমান বললেন, ‘অবশ্যই শাহরুখ।’ খানিক পরেই আবার সংশোধন করে বলেন, ‘না, আমি, আমি। আমার সেন্স অব হিউমার সবার চেয়ে ভালো।’

কমেডি নাকি অ্যাকশন, কোন ধরনের ছবি সালমানের পছন্দ? সালমান বলেন, তাঁর নাকি অ্যাকশন কমেডি পছন্দ। তবে শর্ত হলো, অ্যাকশনের সঙ্গে ইমোশন থাকতে হবে। আর কমেডি হলে হো হো করে হাসতে বাধ্য হবে দর্শক, এমন কমেডি। যদি দর্শক না-ই হাসে, তবে কমেডির কী মানে?

রূপপুর রূপকথা ও বালিশ–বৃত্তান্ত



কোনো জাতির ইতিহাস স্রোতস্বিনী নদীর মতো। সন-তারিখের দেয়াল তুলে তাকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা নির্বুদ্ধিতা। আমরা মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিলাম, ব্রিটিশ ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত এবং সবশেষে পাকিস্তানের অংশ ছিলাম, তা অস্বীকার করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

ষাটের দশকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান রূপপুর নামক এক অপরিচিত জনপদে ২৫০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন পারমাণবিক প্রকল্প গ্রহণ করেন। তাঁর সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম ফারুক ১৯৬৬-এর মে মাসে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে ৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। কানাডা ও জাপানের সঙ্গেও এই প্রকল্প নিয়ে আইয়ুব সরকার দেনদরবার করে এবং তাদের থেকে ঋণ পাওয়ার আশ্বাস পায়। স্বাধীনতার পর অনেক বছর এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করেন, বর্তমানে রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়ন করছেন। এই প্রকল্পের প্রণেতারা বহু জিনিস কেনাকাটাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেও, কর্মকর্তাদের শান্তিতে ঘুমানোর জন্য বিছানাপত্র, বিশেষ করে শয্যার বালিশ নিয়ে কিছু ভাবেননি। আর দশজন যে রকম বালিশে ঘুমায় তাঁরাও সে রকম বালিশেই মাথা রেখে এবং কোলবালিশ বুকে জড়িয়ে শান্তিতে ঘুমাবেন, তেমনটিই ছিল তাঁদের ধারণা।

বর্তমান সময়ের পৃথিবীর সম্ভবত সবচেয়ে দামি বালিশ পাওয়া যাবে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাটে। বিপ্লবপূর্ব রাশিয়ার জার কী রকম বালিশ ব্যবহার করতেন, তা মহামতি লেনিন বলতে পারতেন। বর্তমানে ব্রিটেনের রানি এবং জাপানের সম্রাটের ব্যবহৃত বালিশের মূল্যও আমাদের জানা নেই। সৌভাগ্যবশত আমি তিনজন মানব-মানবীর শয্যায় ব্যবহৃত বালিশ দেখার সুযোগ পেয়েছি। তাঁরা হলেন ইরানের শাহেনশাহ রেজা শাহ পাহলভি, তাঁর দ্বিতীয় বা তৃতীয় রানি ফারাহ দীবা এবং তাঁদের বিতাড়িত করে ইরানের ধর্মীয় ও সর্বময় রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিশেষ মুহূর্তে শাহেনশাহ ও রানি একই বিছানায় শুয়েছেন, কিন্তু তাঁদের শয্যা ছিল আলাদা। আয়াতুল্লাহ খোমেনি জীবনের শেষ ১০টি বছর যে ছোট ঘরে সাধারণ বিছানায় শুয়েছেন এবং যে বালিশে ঘুমিয়েছেন, তা রূপপুরের ভাগ্যবান কর্মকর্তারা কল্পনাও করতে পারবেন না। রূপপুরের এক বালিশের দামে কৌম নগরীর ১০ বালিশ কেনা সম্ভব। পারস্যের শেষ শাহের বালিশও দামের দিক থেকে রূপপুরের ধারেকাছে নয়। অবশ্য বিল গেটস কত দামের বালিশ ব্যবহার করেন, তা রূপপুরের ঠিকাদার ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা অনায়াসে জেনে নিতে পারেন।

বঙ্গীয় সমাজে মানুষ সারা জীবন সাধারণ বিছানায় ঘুমালেও জীবনে অন্তত একবার অপেক্ষাকৃত দামি বালিশ-তোশকে ঘুমায়, সেটা বাসরঘরের ফুলশয্যায়। ফুলশয্যার বালিশের গেলাফে যদি রঙিন ফুল তোলা থাকে, কারও কিছু বলার নেই। কিন্তু পারমাণবিক প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বালিশ-চাদর ফুলশয্যাকে ছাড়িয়ে গেলে আমাদের মৃদু আপত্তি।

যারা বালিশ সরবরাহ করেছেন তারা হয়তো ভেবেছেন পরমাণু কেন্দ্রের বড় বড় কর্মকর্তার ঘুমানোর বালিশ একটু বেশি আরামদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। তাঁর মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখার জন্য সুনিদ্রা হওয়া প্রয়োজন। বালিশের কারণে যদি ভালো ঘুম না হয়, ঘাড় ব্যথা করে, তাঁর কাজে ব্যাঘাত ঘটা বিচিত্র নয়। বিশ্বের বিভিন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের এত দামি বালিশে ঘুমানোর সৌভাগ্য হয়েছে বলে মনে হয় না।

একজন যত দামি বালিশে ঘুমাবেন, তত ভালো ঘুম হবে সন্দেহ নেই এবং শান্তিপূর্ণ ঘুমের মধ্যেই সুখস্বপ্ন দেখা সম্ভব। বালিশ সরবরাহকারীরা সম্ভবত কর্মকর্তাদের সুখস্বপ্ন দেখাতে চেয়েছেন। অবশ্য শুধু রূপপুর কেন, আমাদের পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে এক বঙ্গীয় বনপ্রভুর বাড়িতে বালিশের মধ্যে তুলার পরিবর্তে কড়কড়া ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট পাওয়া গিয়েছিল।

ঢাকায় সাবেক রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার নিকোলায়েভের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর দূতাবাসে গানবাজনা ও খানাপিনার আসরে দাওয়াত দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রুশ ও বাংলা ভাষার শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে এই পারমাণবিক প্রকল্পের প্রসঙ্গও পাড়তেন। যখন এই প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয়তা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা পরিবেশকর্মীরা বলছিলাম, তখন মি. নিকোলায়েভ ছিলেন এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কখনো এমনও হয়েছে যে তিনি তাঁর বলিষ্ঠ হাতখানা আমার শীর্ণ কাঁধে স্থাপন করে বলতেন: দোহাই ভাই, এসব কাজে বাধা দিসনে। আমি বলতাম, আমরা বকবক করেই যাব প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে, তোমার কাজ তুমি করো গিয়ে।

কথায় কথা আসে। এই বালিশ, চা বানানোর কেটলি, টিভি সেট প্রভৃতি প্রসঙ্গেই পারমাণবিক প্রকল্পের প্রসঙ্গ উঠল, তা না হলে এসব প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। ভুলি নাই শুধু চেরনোবিল ও জাপানে পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার কথা।

১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি পাকিস্তান সরকার আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সহযোগিতা নিয়ে পারমাণবিক শক্তি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। মাওলানা ভাসানী তার ঘোর বিরোধিতা করলেও একই দলের আরেক নেতা সোহরাওয়ার্দী করেন সাবলীলভাবে সমর্থন। তখন পাকিস্তানে আবদুস সালাম, নাজির আহমেদ ও আই এইচ উসমানী (ইশরাত হোসাইন উসমানী) পরমাণু বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছিলেন। সালাম ও উসমানী ছিলেন নেতৃত্বে। তাঁরা একটি বিশ্বমানের পরমাণু গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং আণবিক কর্মসূচির প্রকল্প প্রণয়ন করেন।

পাকিস্তানে তখন প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলছিল পুরোদমে। ঘন ঘন সরকার বদল হচ্ছিল। ১৯৫৬-৫৭ সালে আওয়ামী লীগ-রিপাবলিকান পার্টি কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হন আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাওয়ার্দী। তিনি সালাম ও উসমানীর পরমাণু পরিকল্পনা লুফে নেন। বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার আগেই সোহরাওয়ার্দী ক্ষমতাচ্যুত হন। বছরখানেক পরে প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন। তিনি গঠন করেন পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন।

১৯৬০ দশকে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে উসমানী পরমাণু গবেষণায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের এবং পরে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক উসমানীর ভাই। ১৯৮০ দশকের শেষ দিকে আমি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের কয়েক সপ্তাহের এক প্রশিক্ষণ শেষে তেহরান থেকে ঢাকা ফেরার পথে করাচি যাত্রাবিরতি করি। তখন মাহমুদুল হক উসমানীর আওয়ামী লীগ ও ন্যাপ সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। ইশরাত উসমানী ও আণবিক শক্তি কমিশনের বিষয়েও কথা হয়। তিনি বলেন, তাঁরা উত্তর প্রদেশের অধিবাসী। তাঁর ভাইয়ের লেখাপড়া আলীগড়ে ও বোম্বেতে, পরে লন্ডনে। প্রথম জীবনে ছিলেন ভারতে আইসিএস অফিসার। পাকিস্তানে তাঁরা মোহাজের।

একপর্যায়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে উসমানীর সম্পর্ক ভালো ছিল না। তিনি বিদেশে চলে যান। আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির চেয়ারম্যানও ছিলেন। ইরানের শাহেরও পরমাণুবিষয়ক পরামর্শদাতা ছিলেন। যে একটি কারণে তিনি আমাদের কাছে স্মরণীয় তা হলো, ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রদের ইউরোপ-আমেরিকায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বৃত্তি জোগাড় করে দেন। তিনি চাইতেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাঙালি বিজ্ঞানীদের দ্বারাই পরিচালিত হোক।

মূল পরিকল্পনায় ছিল রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র হবে একটি ‘বিশ্বমানের’ প্রতিষ্ঠান, যা পরিচালিত হবে বাঙালি বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের দ্বারা; বিদেশিদের দ্বারা নয়। সেখানে কেনাকাটায় দুর্নীতি হবে, তা কারও কল্পনায় ছিল না।

রূপপুরের বালিশ-বৃত্তান্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এ রকম হাজারো ঘটনা পাওয়া যাবে সরকারি প্রকল্পের কেনাকাটায়। আরব্য রজনীতে রয়েছে হাজার এক রাতের কাহিনি। ওই গল্পকারেরা আজ বেঁচে থাকলে যোগ করতে পারতেন হাজার দ্বিতীয় রাতের কল্পকাহিনির পরিবর্তে বাস্তব কাহিনি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক

প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজের সঙ্গে: কিশোর

‘পৃথিবীতে সুখ বলে’ গানটি নতুন করে গাইছেন, এমন ঘোষণা নিজের ফেসবুকে দিয়েছেন গায়ক ও সংগীত পরিচালক কিশোর। গানটির সূত্র ধরে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, এই ঈদে বেশ কয়েকটি গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। সমসাময়িক ব্যস্ততা ও গান নিয়ে পরিকল্পনার কথা বললেন প্রথম আলোর সঙ্গে।
পুরোনো সিনেমার গান নতুন করে গাইলেন কী মনে করে? 
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অনুপম রেকর্ডিং থেকে জীবন সংসার সিনেমার জনপ্রিয় এই গান গাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি আমারও ভীষণ প্রিয় গান। সিনেমায় প্রথম গানটি গেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমীন ও আগুন। ভালো লাগার এই গান নিতান্তই ভালোবাসা থেকে গেয়েছি। নতুন করে গানটির সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ রাজীব, সহশিল্পী নীলা নাজ।
ঈদে নিজের একক কোনো গান গাইছেন? 
তা তো গাইছি। ‘তোর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়’ শিরোনামের একটি গান গেয়েছি। স্যাড রোমান্টিক ধাঁচের এই গানের কথা ও সুর করেছেন ইথুন বাবু। নিজের গাওয়া গানের বাইরে আমার সুর-সংগীতে এবারের ঈদে আরও চারটি গান প্রকাশিত হবে। তিনটি একক ও একটি দ্বৈত। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ, আসিফ আকবর, ডলি সায়ন্তিনী ও ইমরান।
সমসাময়িক কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়? 
আমি নিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বেশি ভালোবাসি। পেশাদার সংগীতজীবনের শুরু থেকে নিজেকে তৈরি করেছি। যেমন নিত্যনতুনভাবে ভাঙা-গড়ার কাজও করেছি। কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হয় না, আবার সবাই প্রতিদ্বন্দ্বী।
অগ্রজদের মধ্যে কে আপনাকে অনুপ্রাণিত করে? 
অবশ্যই কুমার বিশ্বজিৎ। তিনি আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেন, উৎসাহও দেন। গানের প্রতি এখনো তাঁর সিনসিয়ারিটি, গানের প্রতি ধৈর্য, একাগ্রতা, খুঁতখুঁতে স্বভাব আমাকে বরাবরই বিস্মিত করে।
শেষ তিন প্রশ্ন
দ্বৈত গানে যে তিনজনকে সহশিল্পী হিসেবে চান? কেন চান? 
স্বতন্ত্র কণ্ঠের জন্য ন্যান্সি, বৈচিত্র্যময় কণ্ঠের জন্য কনা এবং আমার সব সময়ের প্রিয় সামিনা চৌধুরী। ভাগ্যক্রমে এই তিন শিল্পীর সঙ্গে চলচ্চিত্র এবং অডিও মাধ্যমে আমার গাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
সুযোগ পেলে নিজের যে অভ্যাসটা বদলাতে চান। 
আমাকে অনেকেই অলস বলে। সুযোগ পেলে নিজের আলসেমিটা দূর করতে চাই।
কার সঙ্গে এক মঞ্চে গাওয়ার স্বপ্ন দেখেন? 
স্বপ্ন যখন দেখব, ছোট কেন? আমি বিশ্বখ্যাত ব্রায়ান অ্যাডামসের সঙ্গে বিশ্বের বড় কোনো মঞ্চে গাইতে চাই। আমার সামনে থাকবে অগণিত দর্শক। ‘এভরিথিং আই ডু, আই ডু ইট ফর ইউ’।

ঈদে ওয়েবের জন্যও তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক


অনম বিশ্বাস পরিচালিত ধারাবাহিক গন কেস ও সৈকত নাসিরের ট্র্যাপড দেখা যাবে দুটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মেটেলিভিশনের মতো ইউটিউবেরও কয়েক বছর ধরে ঈদ উত্সব শুরু হয়েছে। ঈদকে ধরে অনেক নাটক ও টেলিছবি নির্মাণ হচ্ছে ইউটিউবের জন্য। আস্তে আস্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছে দর্শকেরা। আগ্রহও বাড়ছে এসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওয়েব সিরিজে। তাই আগামী ঈদকে ঘিরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য অনেক ওয়েব সিরিজ নির্মাণ হচ্ছে। বায়োস্কোপ, হইচই বাংলাদেশ, বঙ্গবিডি, সিনেস্পট, সিনেমাটিক ইত্যাদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ঈদে ওয়েব ধারাবাহিক বা সিরিজ নিয়ে আসছে।

তবে এই সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিডিও স্ট্রিমিং করে ওয়েব সিরিজ দেখতে হলে সাবস্ক্র্যাইব করে তা দেখতে হবে। এতে গ্রাহককে পয়সা গুনতে হবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন বা ট্যাবে সহজেই অ্যাপ ডাউনলোড করে ওয়েব সিরিজগুলো দেখা যাবে।


ঈদ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ‘হইচই বাংলাদেশ’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হবে মানি হানি নামের ১২ পর্বের একটি ওয়েব সিরিজ। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। ঈদের দিন ওয়েব সিরিজটি উঠবে। বাংলাদেশের একটি ব্যাংক ডাকাতির সত্য ঘটনাকে নাটকটির কাহিনি তৈরিতে কাজে লাগানো হয়েছে। এখানে অভিনয় করেছেন শ্যামল মওলা, মোস্তাফিজুর রহমান, লুত্ফর রহমান জর্জ, সুমন আনোয়ার, নিশাত প্রিয়ম।

হইচই বাংলাদেশ অংশের বিজনেস প্রধান সাকিব আর খান বলেন, ‘এবারই প্রথম আমরা ‘হইচই বাংলাদেশ’ থেকে এ ধরনের বাংলা ওয়েব সিরিজ প্রকাশ করতে যাচ্ছি। সময়টা ঈদের উত্সবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি দর্শকের আগ্রহ একটু একটু করে বাড়ছে। ঈদ উত্সবে সেই আগ্রহটা আরও বাড়তে পারে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আস্তে আস্তে অনলাইন বাজার অনেক বড় হচ্ছে। একসময় ইউটিউবে নাটক–সিনেমা ছিল না। এখন বাড়ছে। যদিও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং করে কনটেন্ট দেখতে পয়সা খরচ হচ্ছে, তারপরেও ভালো মানের কনটেন্ট এখানে থাকছে। তাই আশা করছি, ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বড় বাজার হবে বাংলাদেশে।’

এদিকে ঈদের আগের দিন থেকে পর্যায়ক্রমে সিনেস্পট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১২ পর্বের ওয়েব সিরিজ উঠবে। সৈকত নাসির পরিচালিত সিরিজটির নাম ট্র্যাপড। এখানে অভিনয় করেছেন আইরিন, রিও, এ কে আজাদসহ ইন্দোনেশিয়ার কয়েকজন অভিনয়শিল্পী। ইনোভেটিভ সলিউশনের প্ল্যাটফর্ম এটি। এর পরিচালক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ঈদে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এবারই প্রথম ওয়েব সিরিজ নিয়ে আসছি আমরা। যেহেতু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট দেখতে পয়সা খরচ হয়, তাই টেলিভিশন ও ইউটিউবের চেয়ে এখানকার কনটেন্টগুলো বেশি বাজেটের, ভালো মানের তৈরি করতে হয়। ভালো জিনিসের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহও বেশি। ফলে আগামী দিনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের একটা বড় বাজার তৈরি বেশ সম্ভাবনা আছে।’

ঈদ উপলক্ষে অনন্য মামুন পরিচালিত ধোঁকা নামে ১২ পর্বের ওয়েব সিরিজ উঠবে আরেকটি প্ল্যাটফর্ম সিনেমাটিকে।

বঙ্গবিডির প্রযোজনায় নির্মিত ৭ পর্বের ওয়েব সিরিজ গন কেস উঠবে বায়োস্কোপে। অনম বিশ্বাস পরিচালিত এ সিরিজে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও সাফা কবির। এবারই প্রথম বঙ্গবিডির আয়োজনে ঈদের উত্সবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবিডির পরিচালক মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন তো ইউটিউবেও ঈদের আয়োজন থাকে। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য ঈদের সময় ওয়েব সিরিজ প্রকাশ করছি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য আমাদের প্রথম ওয়েব সিরিজ এটি। তাই একটি বড় উত্সবের মধ্য দিয়ে আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।’

এই পরিচালক জানিয়েছেন ঈদের জন্য পাফ ড্যাডি নামে ১০ পর্বের আরেকটি ওয়েব সিরিজের শুটিং চলছে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই সিরিজে অভিনয় করছেন আজাদ আবুল কালাম, সজল ও পরীমনি।

এক বছর থেমে আছে আলী আমজদের ঘড়ির কাটা



ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি প্রায় এক বছর ধরে বিকল। রোববার বিকেলে সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায়। ছবি: প্রথম আলোচাঁদনী ঘাটের সিঁড়ি/ আলী আমজদের ঘড়ি/ জিতু মিয়ার বাড়ি/ বঙ্কু বাবুর দাঁড়ি। এমন একটি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি সিলেট অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। এর মাধ্যমে সিলেটের পরিচিতি-সূচক চারটি ঐতিহ্য তুলে ধরতেন আগেকার মানুষেরা।

বঙ্কু বাবু মারা গেছেন সেই কবে। বাকি তিনটি ঐতিহ্য এখনো টিকে রয়েছে। এর মধ্যে আলী আমজদের ঘড়ির বয়স হয়েছে ১৪৫ বছর। এক বছর ধরে ঘড়িটি বিকল। ঘড়ির কাঁটা সচল করতে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই।


সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আলী আমজদের ঘড়ি সিলেটবাসীর কাছে এখন ঐতিহ্যবাহী একটি স্থাপনা। অনেক পর্যটকও এখন এটি দেখতে আসেন। অথচ এক বছর ধরে ঘড়ির কাঁটা থমকে আছে। ঐতিহ্যবাহী এ ঘড়ির কাঁটা শিগগিরই সচল করা হোক, এটি আমাদের দাবি।’

নগরের কিনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর পাড় আর সারদা হলের মাঝখানে শহরের ‘জিরো’ পয়েন্ট। তার ঠিক ১০০ মিটারের মধ্যেই আলী আমজদের ঘড়ির অবস্থান। কিনব্রিজ পার হয়ে শহরের উত্তর অংশের ঠিক প্রবেশমুখে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা এ ঘড়ি স্থাপিত হয় ১৮৭৪ সালে। ওই বছর তৎকালীন বড়লাট লর্ড নর্থব্রুক সিলেট সফরে এসেছিলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার নবাব আলী আহমদ খান ঘড়িটি নির্মাণ করেন। নামকরণ করেন নিজের ছেলে আলী আমজদ খানের নামে। ভারতের দিল্লির চাঁদনী চক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নবাব ঘড়িটি স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন।

ঘড়িটির দেখভাল করার দায়িত্বে আছে সিলেট সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা গেছে, আলী আমজদের ঘড়ির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি। নিচ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ১৩ ফুট, ছাদ থেকে ঘড়ি অংশের উচ্চতা ৭ ফুট, ঘড়ির ওপরের অংশের উচ্চতা ৬ ফুট। মোট উচ্চতা ২৬ ফুট। ঘড়িটির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। তখনকার সময়ে এখানকার মানুষ সাধারণ সূর্যের আলো দেখেই সময় আন্দাজ করে নিতেন। ঘড়িটি চালু হওয়ার পর সময় জানার জন্য এটিই হয়ে ওঠে অনেকের অবলম্বন।

লোহার খুঁটির ওপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির এই ঘড়ি। এই নান্দনিক স্থাপনা যে কাউকে মুগ্ধ করে। এ ঘড়ি সিলেটের প্রতীক হিসেবে এখন দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা ঘড়িটি বিধ্বস্ত করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের পরে কিছুসংখ্যক প্রবাসী, আরও পরে তৎকালীন সিলেট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এটি সচল করতে উদ্যোগী হয়। বার কয়েক সংস্কার করা হলেও নানা সময়ে ঘড়িটি অচল হয়ে পড়ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশন ঘড়িটি পুনরায় সচল করে। এরপর দীর্ঘদিন ঘড়িটি সচল ছিল। কিন্তু গত বছর পুনরায় বিকল হয়ে ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘড়িটি নানা সময়ে সচল করার উদ্যোগ নিয়েছিল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঘড়িটি সংস্কার করে সচল করা হয়। এর ফলে পুনরায় ঘড়িটি সময় জানান দিতে থাকে। বছরখানেক আগে পুনরায় তা অচল হয়ে পড়ে। এখন আবার এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে এই উদ্যোগ নিতে সিটি করপোরেশনের বৈদ্যুতিক শাখাকে বলা হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮ ঘণ্টায় ১২ কেজি সোনা জব্দ



প্রতীকী ছবিহজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আট ঘণ্টার ব্যবধানে ১২ কেজি সোনার চালান জব্দ করা হয়েছে। দুটি পৃথক ঘটনায় এসব সোনার চালান জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুস সালাম, মোহাম্মদ শাকিল মোল্লা ও মাকসুদুর রহমান নামে বিদেশ ফেরত দুই যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুজনের কাছ থেকে জব্দ হওয়া সোনার মূল্য সোয়া ছয় কোটি টাকার বেশি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের উপপরিচালক অথেলো চৌধুরী বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটের যাত্রী আব্দুস সালামকে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর্চওয়ে মেশিনে তল্লাশি করা হলে সালামের প্যান্টের মধ্যে ধাতব পদার্থের সংকেত পাওয়া যায়। তাঁর পরনে প্যান্টে লুকানো সাদা রঙের স্কচটেপে মোড়ানো দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে এই দুটি প্যাকেট থেকে সোনার ১০৩টি বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১০০ গ্রাম।

কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সালাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি সোনার যেসব বার পাচার করে এনেছিলেন এর মালিক এইচ এম নুরুজ্জামান ওরফে জিকো নামে এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি ঢাকার খিলক্ষেতে। আব্দুস সালামের মুঠোফোনে নুরুজ্জামানের ছবি এবং পাসপোর্টের ছবিও পাওয়া যায়। বিমানবন্দরে কর্মরত কোনো এক সংস্থার এক কর্মকর্তার কাছে সোনা চালানটি দেওয়ার কথা ছিল। পরে ওই কর্মকর্তাই নুরুজ্জামানের কাছে সোনা হস্তান্তর করবেন বলে কথা ছিল। আব্দুস সালাম মে মাসে পাঁচবার সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করেছেন। আগেও বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তার মাধ্যমে সোনার চালান হস্তান্তর করেছেন। তবে যাত্রী বিমানবন্দরে কর্মরত ওই কর্মকর্তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি।


শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, আজ সকাল সাতটার দিকে ইউএস বাংলার এই ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন মাকসুদুর ও শাকিল মোল্লা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তল্লাশি করা হয়। প্রথম অস্বীকার করার পর এই দুই যাত্রীকে ব্যাপক তল্লাশি করা হয়। এ সময় মাকসুদুর ও শাকিল তাঁদের পায়ুপথে সোনার বার থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তাদের পায়ুপথ থেকে সোনার ২০টি বার উদ্ধার করা হয়। এসব সোনার বারের ওজন দুই কেজি ২৪৭ গ্রাম। এর মোট মূল্য এক কোটি ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

তিন যাত্রীর বিরুদ্ধে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শ্বশুরবাড়িতে শিকলে বেঁধে জামাইকে পিটুনি, কারাগারে স্ত্রী-শাশুড়ি




চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে শিকল দিয়ে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রী, শাশুড়ি ও মামাশ্বশুরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার জামাইয়ের নাম সোহরাব হোসেন (৩০)। তিনি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে। গত রোববার সন্ধ্যায় জীবননগর পৌর এলাকার হ্যালিপ্যাডপাড়ায় শ্বশুর হারেজ আলীর বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানের জন্য ঈদের পোশাক দিতে এসে ওই নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এদিকে জীবননগর থানার পুলিশ সোহরাব হোসেনের দায়ের করা মামলায় গতকাল সোমবার রাতে তাঁর (সোহরাবের) স্ত্রী নীলা খাতুন, শাশুড়ি মেহেরজান বেগম ও মামাশ্বশুর মসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ দুপুরে জীবননগর আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহরাব বলেন, কয়েক দিন আগে মুঠোফোনে ব্যালেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী নীলার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। নীলা ওই সময় হাতে আঘাত পেলে রাগ করে বাবার বাড়ি জীবননগরে চলে আসেন। সোহরাবের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানকে ঈদের জামাকাপড় দিতে জীবননগরে শ্বশুরবাড়িতে এলে মামাশ্বশুর মসলেম উদ্দিন অকথ্য গালাগালি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই দিন সন্ধ্যা থেকে বাড়ির বাইরে বাঁশের মাচার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। সারা রাত তাঁকে বাঁশের মাচায় বেঁধে রেখে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে বাড়ির ভেতরে উঠানে কাঁঠালগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। বেঁধে রাখা সময়ে স্ত্রী ও শাশুড়ির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মামাশ্বশুর মারপিট করেন।

সোহরাব বলেন, ‘বিষয়টি জানাজানি হলে জীবননগর থানার পুলিশ গতকাল রাতে আমাকে উদ্ধার করে।’

অভিযুক্ত মামাশ্বশুর মসলেম উদ্দিন জীবননগর থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের জানান, ভাগনিকে মারপিট করার ঘটনায় রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ভাগনিজামাই সোহরাবকে বকাঝকা করা হয়। তিনি যাতে আত্মগোপনে থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে মিথ্যা গুমের মামলা দিতে না পারেন, সে জন্য তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে (সোহরাবের) বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই পুলিশ চলে আসে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি মিয়া জানান, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শিকলবন্দী জামাই সোহরাব হোসেনের ছবি প্রকাশের পরপরই তাঁকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়। বেআইনিভাবে আটক ও মারধরের অভিযোগে নির্যাতিত সোহরাবের দায়ের করা মামলায় তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি ও মামাশ্বশুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নেইমার-এমবাপ্পে, কাউকেই লাগবে না রিয়ালের!



এই দুজনের রিয়ালে আসা-না আসা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হচ্ছে। ছবি : এএফপি


নেইমার কি পিএসজি ছেড়ে রিয়ালে আসবেন? নাকি নেইমারকে না নিয়ে এমবাপ্পেকে নেবে রিয়াল? নাকি দুজনই আসবেন রিয়ালে? খোলাসা করলেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই যে গুঞ্জনের শুরু, সেটি যেন আর থামতেই চাচ্ছে না। পর্তুগিজ তারকার জায়গায় কোনো মহাতারকাকে দলে ভেড়ায়নি রিয়াল। আস্থা রেখেছে ঘরের ছেলেদের ওপরই। কিন্তু তাতে দলবদল বাজারের গুঞ্জন থামবে কেন? কিলিয়ান এমবাপ্পে, নেইমারের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রতিনিয়তই রিয়ালের নাম আসছে। কিন্তু তাঁদের দলে আনার ব্যাপারে রিয়াল কতটুকু আগ্রহী? রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নিজেই জানিয়েছেন সেটি।


স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ওনদা সেরোকে গতকাল এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রিয়াল সভাপতি। সে সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। দলে নতুন কে আসছেন, কে রিয়াল ছাড়তে চাইছেন, রিয়ালের পরিকল্পনা ইত্যাদি। সেখানেই এমবাপ্পে আর নেইমারের ব্যাপারে মুখ খুলেছেন পেরেজ। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার বা এমবাপ্পে, কারওর ব্যাপারে আগ্রহ নেই রিয়ালের! দলের কোচ জিনেদিন জিদানের সঙ্গে দুই পিএসজি তারকাকে নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি, জানিয়েছেন পেরেজ, ‘জিদানের সঙ্গে আমি নেইমার বা এমবাপ্পে, কাউকে নিয়েই কথা বলিনি। এমনকি অন্য কারওর সঙ্গেও আমার ওদের ব্যাপারে কথা হয়নি। এমবাপ্পে ও নেইমারের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমার মনেও হয় না দলবদল নিয়ে ওদের সঙ্গে আমি কোনো কথা বলব ভবিষ্যতে। আমি গত বছরও এই কথা বলেছিলাম। এখনো বলছি। ওদের দরকার নেই রিয়ালের। কোনো খেলোয়াড়কে যদি আমরা চাই, আমরা সরাসরি সে খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে কথা বলব।’

শুরু থেকেই রোনালদোর উত্তরসূরি হিসেবে এ দুজনের নাম বারবার ঘুরেফিরে আসছে। কাকতালীয়ভাবে দুজনই এক ক্লাবে খেলেন— পিএসজিতে। পিএসজি এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় শক্তি, ফলে তাদের কাছ থেকে বড় কোনো তারকাকে আনতে হলে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে রিয়ালকে। খসাতে হবে বিপুল অর্থ। সে কথা জানেন দেখেই কি না, এখন এই দুজনের ব্যাপারে কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না পেরেজ।

এখন পেরেজের কথায় নেইমার ও এমবাপ্পেকে নিয়ে দলবদলের গুঞ্জন থামলেই হয়!

ধনীরা কি পৃথিবী বদলে দিতে পারেন?


গত সপ্তাহে আটলান্টার মোরহাউস কলেজের বর্ষশেষ গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। রবার্ট স্মিথ নামের এক বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল অনুষ্ঠানের মুখ্য বক্তা হিসেবে। তিনি আমেরিকার সবচেয়ে ধনাঢ্য কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। জনসেবার জন্য আগে থেকেই তাঁর খ্যাতি রয়েছে। রবার্ট স্মিথ কাউকে কোনো আগাম আভাস না দিয়ে ভাষণের একদম শেষ পর্যায়ে ঘোষণা করেন, ২০১৯ সালে যাঁরা এই কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে বেরোচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অপরিশোধিত শিক্ষাঋণ তিনি শোধ করে দেবেন।

রবার্ট স্মিথ কী বলছেন, সে কথার মানে বুঝতেই অনেকের কয়েক মিনিট চলে গেল। দু-চার ডলার নয়, প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর ৪০ মিলিয়ন ডলার ঋণ এক কথায় মাফ! যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়ার ব্যয় সহজসাধ্য নয়। চার বছর কলেজে পড়ার জন্য কোনো কোনো শিক্ষার্থীর এক লাখ ডলার বা তার চেয়ে বেশি অর্থ ঋণ করা আছে। কেউ কেউ শিক্ষাজীবন শেষ করার অনেক পরেও ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াতে বাধ্য হন। একজন ভীষণ ধনাঢ্য ব্যক্তি, যাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার, তিনি কী অনায়াসে এই শিক্ষার্থীদের অনেকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেন।

কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের ধনবান ব্যক্তিরা নামজাদা দাতা হয়ে উঠেছেন। বিল গেটস থেকে ওয়ারেন বাফেট, ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ থেকে আমাজনের জেফ বেজোস—এঁরা সবাই যেন একধরনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন কে কার চেয়ে কত বেশি অর্থ বিলিয়ে দেবেন। বিল গেটস তো বলেই বসেছেন, তিনি জীবনে যে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামিয়েছেন, সব বিলিয়ে দেবেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। এ পর্যন্ত যে অর্থ তিনি দান করেছেন, তার পরিমাণ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সব দেশেই ধনীরা কম–বেশি অর্থ দান করেন। কেউ করেন পরজন্মে পুণ্যের লোভে, কেউ করেন জীবদ্দশায় নাম কামাতে, কেউবা দান করেন কর মওকুফ পাওয়া যায়, এই ভাবনা থেকে। এমন লোকও আছেন, যাঁরা নাম কামালে আরও বেশি অর্থ কামানো যায়—এই ভাবনা থেকে দান করেন।

অর্থ বিলানোর কাজটা ভালো না মন্দ, এই নিয়ে এক পুরোনো বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছেন নিউইয়র্ক টাইমস–এর সাবেক সাংবাদিক আনন্দ গিরিধরদাস। উইনার্স টেক অলনামের এক গ্রন্থে তিনি দাবি করেছেন, দানছত্র খোলার নামে অতি ধনীরা যে কাণ্ড করছেন, তা আসলে একধরনের ব্যঙ্গ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁরা কেউই খুব সৎপথে অর্থ উপার্জন করেননি। তাঁরা নিজেরাই প্রভাব ও অর্থ খাটিয়ে এমন এক ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁদের কোটিপতি, বহু কোটিপতি হতে সাহায্য করেছে। এখন তাঁরাই আবার পৃথিবী বদলের কাজে নেমেছেন, যার লক্ষ্য একটাই—পৃথিবী বদলানো নয়, যে সুবিধা তাঁরা এত দিন ভোগ করে এসেছেন, তা টিকিয়ে রাখা। গিরিধরদাসের যুক্তি অনুসারে, চলতি ভোগবাদী ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা হলো সম্পদের অসম বণ্টন ও অব্যাহত বৈষম্য। ধনীরা কিছু টাকা ছড়ালে তাঁদের যেমন সম্পদ কমে না, তেমনি বিশ্বজোড়া বৈষম্যেরও কোনো তারতম্য হয় না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পদ সৃষ্টির প্রধান হাতিয়ার হলো মুনাফা। শ্রমিকদের ও ভোক্তাদের না ঠকালে মুনাফা হয় না। ফলে যে চোরাপথে তাঁরা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, সেই একই ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাঁরা কী করে অসাম্য কমাবেন?

তাহলে কি অতি ধনীরা নিজেদের ধন দান করে উল্টো বিপদ ডেকে আনছেন?

কিছুটা আনছেন তো বটেই। তাঁরা নিজেরাই ঠিক করছেন কীভাবে তাঁদের দান করা অর্থ ব্যয় হবে। অনেকটা আমেরিকার দেওয়া ‘ফরেইন এইডের’ মতো—কোথায় কোন খাতে কীভাবে অনুদানের অর্থ ব্যয় হবে, তার যাবতীয় শর্ত মেনে নিলে তবেই সে অনুদান মিলবে। দেখা গেছে, অতি ধনী দাতাদের প্রদত্ত অর্থের প্রায় ৬০ শতাংশ যাচ্ছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশের সিংহভাগ শিক্ষা ক্ষেত্রে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতি ধনীরা নিজেরা যেসব কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, যার বেশির ভাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন, সেখানেই টাকা ছড়াচ্ছেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনিতেই সম্পদশালী, তাদের একটা বড় কাজ চলতি অসাম্যের ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার পক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তি খাড়া করা। আর সেই সব বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত অর্থ ঢালা হচ্ছে, তা–ও সরকারিভাবে কর মওকুফের সুযোগ ব্যবহার করে। বিল ক্লিনটনের সাবেক শ্রমমন্ত্রী রবার্ট রাইশ মন্তব্য করেছেন, দান–খয়রাতের নামে ধনীরা যে কাণ্ড করছেন, তা আসলে ন্যায্য কর দেওয়া থেকে নিস্তার পাওয়ার একটা সহজ পথ ছাড়া আর কিছু নয়।

আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো এ কথার সেরা উদাহরণ। তিনি দান-ধ্যান করবেন বলে এক ফাউন্ডেশন খুলে বসেছিলেন। আর সে ফাউন্ডেশন থেকে তিনি করমুক্ত যে অর্থ সংগ্রহ করেন—কিছু নিজের, অধিকাংশই অন্যের—তার অধিকাংশই ব্যয় হয় নিজের পোষা প্রকল্পের সমর্থনে। এমনকি তিনি নিজের পোর্ট্রেট কেনার জন্যও এই ফাউন্ডেশনের হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন। তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোনোর অবস্থা শুরু হলে সে ফাউন্ডেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের দাতব্য সংস্কৃতির অবস্থা খুব যে ভিন্ন, তা নয়। একটা সময় ছিল যখন রাজা-বাদশাহ-জোতদার-জমিদার দান-ধ্যানের নামে মসজিদ–মন্দির বানিয়েছেন, কেউ কেউ পাঠাগার বা বিদ্যালয়। এত দিন পরে আমরা সবাই ভুলে গেছি কী প্রবল অত্যাচারী ছিলেন সেই ক্ষমতাবানেরা অথবা খাজনা আদায় করতে কীভাবে লাঠিয়ালদের ব্যবহার করেছেন। তাজমহলকে মনে রেখেছি, কিন্তু যে ২০-২২ হাজার শ্রমিকের রক্তে ও অশ্রুতে সে স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ, তাঁদের কথা মনে রাখিনি, তাঁদের নামও আমরা জানি না। সাম্প্রতিক সময়ে যে এই অবস্থা বদলেছে, তা মনে হয় না। এখন যাঁরা দান-খয়রাত করে নাম করেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই হয় ঋণখেলাপি, নয়তো বাঁকা পথে সম্পদ বানিয়েছেন। তাঁরা সবাই চাইছেন কিছু টাকা ছড়িয়ে গায়ের ময়লা দাগ কিছুটা হলেও ধুয়ে ফেলতে।

তাহলে ধনীরা তাঁদের সম্পদ নিজেরাই ভোগ করুন, কোনো সামাজিক কাজে ব্যয় না করুন, সেটাই অধিক যুক্তিপূর্ণ? যাঁরা অতি ধনীদের বদান্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা কেউই সে কথা বলেন না। তাঁরা শুধু বলছেন সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্য হওয়া উচিত হাতে ব্যান্ড এইড লাগিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ নয়, রক্তক্ষরণের কারণকে আঘাত করা। সামাজিক বৈষম্য ও বণ্টনের অসাম্য টিকিয়ে রেখে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। রবার্ট স্মিথ মোরহাউস কলেজের ৪০০ শিক্ষার্থীর অবস্থা বদলাতে সাহায্য করেছেন ঠিকই, কিন্তু যে অসম শিক্ষাব্যবস্থার কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ঋণের ভারে নুইয়ে রয়েছেন অথবা আগামী দিনে যাঁরা এই বোঝা মাথায় তুলে নেবেন, তাঁদের কী হবে? আসলে ধনীরা কাকের জন্য ভাত ছড়ালে দুই-চারজনের সুবিধা হয়তো হয়, কিন্তু অসাম্যের কাঠামোগত চরিত্র কখনোই বদলায় না। পৃথিবীও বদলায় না।

ধনীরা নিজেরাই এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনবেন, এ কথা কেউ বলে না। তেমন আশা করাও অন্যায়। ধনীরা যদি সত্যি পরিবর্তন চান, ন্যূনতম যে কাজটি তাঁরা করতে পারেন তা হলো নিজেরাই নিজেদের সম্পদের পুনর্বণ্টনের দায়িত্ব না নিয়ে সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া। তাঁরা যদি নিজেদের ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারকে প্রাধান্য না দিয়ে সাধারণ কল্যাণের বড় ছবিটা মাথায় রাখেন, তাহলে অল্পবিস্তর ভালো কাজ নিশ্চয় অর্জন সম্ভব। এ জন্য প্রথম কাজই হবে যাঁদের জন্য এই দান, তাঁদের সে কাজে যুক্ত করা। গ্রামে যদি একটা রাস্তা বানানোর জন্য দান আসে, তাহলে সে রাস্তা কোন দিক দিয়ে গেলে ভালো হয়, এ কথা গ্রামের মানুষের চেয়ে ভালো আর কে জানবে?

হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি

এবার ৪১তম বিসিএস, পদ ২ হাজার ১৩৫


চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য আসছে আরও একটি বিসিএস। এটি হবে ৪১তম বিসিএস। এই বিসিএস হবে সাধারণ (জেনারেল)। এই বিসিএসে নেওয়া হবে ২ হাজার ১৩৫ জনকে।

৪১তম বিসিএসের বিষয়ে চাহিদাপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হয়েছে। এখন সুবিধাজনক সময়ে পিএসসি এই বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসি নির্দেশনা পেয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চাহিদাপত্র তারা হাতে পেয়েছে। এই বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষাতে প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেওয়া হবে।

শিক্ষার পরে বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

পুলিশে ১০০, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জনকে নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাব রক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেওয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।

সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে।

বিসিএসের বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪১তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৪১তম বিসিএস বিশেষ হবে না উল্লেখ করে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, অনেকে ধারণা করেছিলেন ৪১তম বিসিএস বিশেষ হবে, কিন্তু সেটি হচ্ছে না।
কবে নাগাদ এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘আমাদের হাতে কয়েকটি বিসিএসের কাজ আছে। এগুলো শেষ করে এ বছরে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।’

পিএসসির চেয়ারম্যান জানান, ৪১তম বিসিএসে ২ হাজার ১৩৫ জনকে (ক্যাডার) নেওয়া হবে। তবে একেকটি বিসিএস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রার্থী নন–ক্যাডারে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ভালো ভালো পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। সেই হিসাবে, একেকটি বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করলে নিশ্চিত চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

৪০তম বিসিএসের জন্য গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ৪০তম বিসিএসের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। এতে আবেদন করেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৩ মে। এতে প্রায় ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এই বিসিএসে মোট ১ হাজার ৯০৩ জন ক্যাডার নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

স্প্যাম মেইলে ১০ লাখ ডলার

যাঁরা ই–মেইল ব্যবহার করেন, তাঁরা জানেন, মাঝেমধ্যেই ‘আপনি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জিতেছেন’ বা ‘লটারি জিতেছেন–জাতীয় ই–মেইল এসে থাকে। এসব যে ধাপ্পাবাজি বা হ্যাকার-প্রতারক চক্রের পাতা ফাঁদ—ব্যবহারকারীরা এত দিনে তা বুঝে গেছেন। অনেক সময় কোম্পানির প্রচারণা বিজ্ঞাপনের অংশ হয় এগুলো। এসব ই–মেইলকে ‘স্প্যাম’ বলা হয়। সম্প্রতি এ রকম এক স্প্যাম ই–মেইল খুলে ভাগ্যই খুলে গেছে মার্ক লিচফিল্ড নামের এক ব্যক্তির।

লিচফিল্ডের ইয়াহু মেইলে হঠাৎ একদিন ই–মেইল আসে, তিনি ১৫ লাখ ডলার অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন। মেইলটি খোদ ইয়াহু কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছে। এতে লেখা ছিল, ‘আমরা আপনাকে কিছু অর্থ দেব। আপনি কি তা চান?’ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ওয়েবসাইটেএকটি ‘বাগ’ ধরে দেওয়ায় পুরস্কারটি দিচ্ছে তারা

ইয়াহুসহ এখন সব বড় অনলাইন-জায়ান্টরা তাদের ওয়েব কোডে ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারলে এমন অর্থ পুরস্কার দিয়ে থাকে। এসব ত্রুটিকে ‘বাগ’ বলে।

লিচফিল্ড বলেন, তিনি ওই ত্রুটি ধরে দেওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। কাজটি নিতান্তই স্বেচ্ছাসেবকের মতো করেছিলেন তিনি। লিচফিল্ড বলেন, যে কেউই কাজটি করতে পারেন। এর জন্য কোডিং জ্ঞানও থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তিনি নিজেও কোডিং পারেন না।

রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯

লেজের ব্যাটসম্যানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা কোহলির


প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। প্রশংসা করেছেন বোলারদেরও।
প্রস্তুতি ম্যাচ বলেই সম্ভবত কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তা ছাড়া নিউজিল্যান্ডও কালকের জয়কে হালকা চোখেই দেখছে। রস টেলর বলেছেন, প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয় বিশ্বকাপে কাজে আসবে কমই। কিন্তু বিরাট কোহলিদের তো এসব কথায় কান দেওয়ার সময় নেই। ভীষণ বাজে হয়েছে টপ অর্ডার ব্যাটিং। দাঁড়াতে পারেনি মিডল অর্ডারও। শেষ অবধি লেজের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় সংগ্রহটাকে মোটামুটি ভদ্রস্থ চেহারা দিতে পেরেছে ভারত। প্রস্তুতি ম্যাচ বলে যতই উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকুক। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এই ব্যর্থতা দুশ্চিন্তায় ফেলতে বাধ্য সমর্থকদের।