মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার আগ্রহ প্রকাশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্সমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্সমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি এখন জাপান সফরে রয়েছে। আজ সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ইরান আলোচনা করতে চায়। তারা আলোচনা করতে চাইলে আমরাও আলোচনা করতে চাই।’
চার দিনের সফরে ট্রাম্প গত শনিবার জাপান পৌঁছান। ইরান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখব কী ঘটে। কিন্তু আমি জানি যে প্রধানমন্ত্রী (আবে) ইরান নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কেউই ভয়ংকর কিছু ঘটতে দেখতে চান না, বিশেষ করে আমি।’
ইরান হামলা চালাতে পারে—নিজ দেশের এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শক্তির আস্ফালন চলছে। ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে কাজ করছেন। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করা দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান ফিরে পেতে কাজ করছে দেশটি।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করা ছয়টি দেশের মধ্যে বছরখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদ দূতাবাস থেকে তাদের কয়েকজন কর্মীকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে। ইরানের উদ্দেশে রণতরি নিয়ে লোহিত সাগরের সুয়েজ খালে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন নৌবহর। তবে বরাবরই মার্কিন ওই গোয়েন্দা তথ্যকে ভুয়া বলে দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শাখা দ্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
আর এই আইআরজিসির পার্লামেন্ট–বিষয়ক ডেপুটি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালেহ জোকার যুক্তরাষ্ট্রের রণতরির ওপর সহজেই ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন। বার্তা সংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মোহাম্মদ সালেহ জোকার বলেছেন, ‘এমনকি আমাদের স্বল্প দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্রও মার্কিন রণতরিতে সহজে আঘাত হানতে পারবে। নতুন যুদ্ধের খরচ চালানোর সাধ্য নেই যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটি এখন জনশক্তি ও সামাজিক অবস্থানের দিক দিয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা ‘ফোনের পাশেই বসে রয়েছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে কোনো বার্তা আসছে না ইরানের তরফ থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা অল্প কিছু সাংবাদিককে বলেন, ‘আমরা মনে করি, তাদের (ইরান) সমঝোতায় আসা উচিত।’

জাপান পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্পডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ শনিবার টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন । বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের কর্মকর্তারা। 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিমান হানেদায় অবতরণের ঘণ্টা দুয়েক আগে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প জাপানের রাজধানীর আশপাশের এলাকাকে প্রকম্পিত করে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল জাপানি স্কেলে ৫ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল টোকিওর পাশের চিবা জেলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভূগর্ভের প্রায় ৬০ কিলোমিটার নিচে। সেই এলাকার কাছেই মোবারা শহর অবস্থিত, ট্রাম্প যেখানে আগামীকাল রোববার সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে গলফ খেলবেন।
ট্রাম্পের আজকের অনুষ্ঠান-সূচিতে আছে টোকিওতে জাপানের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক নৈশভোজে মিলিত হওয়া। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল রোববার মূলত গলফ খেলে, সুমো মল্লযুদ্ধ দেখে এবং জাপানি রেস্তোরাঁয় অনানুষ্ঠানিক নৈশ ভোজে অংশ নিয়ে সময় কাটবে তাঁর। সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী আবের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হওয়া ছাড়াও সম্রাটের দেওয়া নৈশ ভোজে যোগ দেবেন।
এই সফর নিয়ে শুরু থেকেই ট্রাম্প আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। টোকিওর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর বিমান থেকে পাঠানো এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাপানের মহামান্য সম্রাটকে সম্মান জানানোর অপেক্ষায় আমি আছি।” এর আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে “জাপানে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সারা বিশ্বের সকল দেশের মধ্যে থেকে একমাত্র আমি যোগ দিতে যাচ্ছি।” জাপানে তিনি তাঁর বন্ধু শিনজো আবের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়ে মতামত বিনিময় করবেন বলেও টুইট বার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।

বিশ্বকাপ মাতাবে ওয়াওয়ের ‘ধুম ধুম’


বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২৯ মে ওয়াও প্লেতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়াও প্লে’র বিশ্বকাপ থিম সং ‘ধুম ধুম’। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ গানের মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলকে উৎসাহ তথা বাংলাদেশের ক্রিকেট তারুণ্য কে আরও উদ্দীপ্ত করাই তাদের ইচ্ছা।
‘ধুম ধুম’ মিউজিক ভিডিওর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌরি সেলিম, ইউটিউব তারকা প্রত্যয় হিরণ এবং শিশু শিল্পী স্পৃহা ও প্রেয়সী। গানটির পরিচালক ঈশান হায়দার বলেন, এ গানে অংশ নিয়েছেন কলকাতায় অনুষ্ঠিত ট্রাই নেশন টি-২০ হুইলচেয়ার ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ডিডিএফ হুইলচেয়ার ক্রিকেট বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন দল। তিনি বলেন ‘আমার বিশ্বাস ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপকে ঘিরে এই গানটি দর্শক জনপ্রিয়তা এ যাবৎ কালের ইউটিউবের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে।’
চার মিনিটের এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী আলভী, বাবলু কবির ও দেবশ্রী অন্তরা রয় চৌধুরী। গানটি লিখেছেন আলিফ প্রভাত। সোমবার ওয়াও প্লে’র স্বত্বাধিকারী এবং কামরুল গ্রুপ এর চেয়ারম্যান কামরুল আহসানের বনানী অফিসে সংগীত শিল্পী আলভী’র সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কামরুল গ্রুপের মার্কেটিং হেড মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ওয়াও প্লে’র নির্বাহী প্রযোজক ঈশান হায়দার, কামরুল গ্রুপের প্রধান ক্রিয়েটিভ গ্রাফিক ডিজাইনার মোঃ সৈকত সবুজ।
এ ব্যাপারে ওয়াও প্লে’র স্বত্বাধিকারী এবং কামরুল গ্রুপের চেয়ারম্যান কামরুল আহসান বলেন, ‘খেলাধুলার মঞ্চে সংগীতের যে প্রভাব ও গুরুত্ব তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে দর্শকদের জন্য একটা পরিচিত সুর প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত এ থিম সং’টা বিশ্বকাপে বাংলাদেশর প্রাণ হয়ে থাকবে।’

সালমান চান, ক্যাটরিনা বিয়ে করুক


সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফবলিউড তারকা সালমান খান আর ক্যাটরিনা কাইফের সম্পর্ক পুরোনো। তাঁরা এককালের সহকর্মী, প্রেমিক-প্রেমিকা আর এখন খুব ভালো বন্ধু। সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ তাঁদের প্রেম নিয়ে প্রকাশ্যে কখনো কিছু বলেননি, কিন্তু তাঁদের আচরণ বলে দিয়েছে, ডুবে ডুবে জল খাচ্ছেন তাঁরা। এভাবে এই জুটির অঘোষিত প্রেমে বুঁদ হয়ে ছিল বলিউড।

রূপকথার সেই প্রেমে রণবীর কাপুর দমকা হাওয়া হয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেলেন রাজকন্যা ক্যাটরিনা কাইফকে। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় সালমান খানের সাজানো বাগান। তারপর হঠাৎ একদিন শোনা গেল, রণবীর নাকি আলিয়া ভাটের প্রেমে মজেছেন আর শুটিংয়ের মাত্র পাঁচ দিন আগে সালমান খানের ‘ভারত’ ছবি ছেড়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ঝোপ বুঝে কোপ মারেন সালমান। ক্যাটরিনার কাছে ‘ভারত’ ছবির প্রস্তাব নিয়ে যান এই সাবেক প্রেমিক। আর তাতে ‘হ্যাঁ’ বলেন সদ্য হৃদয় ভাঙা প্রেমিকা ক্যাটরিনা।


এরপর শুটিং সেটে প্রেমের অভিনয় করতে করতে পুরোনো প্রেম কি জেগে উঠেছে? বলিউডের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ‘হ্যাঁ।’ আর সেসব খবর দেখে সালমান ও ক্যাটরিনা আগের মতোই মুখে কুলুপ এঁটে কেবল মুচকি হাসছেন।

পরিসংখ্যান বলে, পর্দার বাইরে ক্যাটরিনার মুখে সবচেয়ে বেশি হাসি ফুটিয়েছেন সালমান খান। অন্যভাবে বলা যায়, সালমান খান ক্যাটরিনাকে যত খুশি রাখতে পারেন, অন্য কেউ তা পারেননি। আর ক্যাটরিনাকে খুশি দেখে সালমান খান যে কতটা খুশি হন, সেটা বলে দিতে হবে?

পর্দার বাইরে ক্যাটরিনা কাইফের মুখে সবচেয়ে বেশি হাসি ফুটিয়েছেন সালমান খান‘ভারত’ ছবির প্রচারণায় বলিউড হাঙ্গামার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সালমান খান আর ক্যাটরিনা কাইফ। এ সময় উপস্থাপক ফরিদুন শাহরিয়ার সালমান খানের কাছে জানতে চান, ক্যাটরিনা নায়িকা না হলে অন্য কী হতেন? প্রশ্ন শুনে গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসেন সালমান। সালমানকে সাহায্য করতে তখন উপস্থাপক বলেন, ‘প্রোডিউসার?’ তখন পাশ থেকে ক্যাটরিনা জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কিছুই প্রযোজনা করেননি। তখন সালমান খান খুঁজে পান প্রশ্নের উত্তর। বলেন, ‘বিয়ে করে বাচ্চা “প্রডিউস” করা উচিত ক্যাটরিনার।’

এর আগে বলিউডের ভাইজান সালমান খান জানান, তিনি চান, ক্যাটরিনা যেন তাঁকে ‘মেরি জান’ বলে ডাকে। ‘ভারত’ ছবির প্রচারে সালমান খানকে দেখা গেছে ক্যাটরিনার শাড়ি ঠিক করে দিতে। আবার কিছুদিন আগে বাবা হতে চান বলে মনের ইচ্ছা জানিয়েছেন সালমান। তবে কি তিনি ক্যাটরিনার বাচ্চার বাবা হতে চান? জ্ঞানীদের জন্য নাকি ইশারাই যথেষ্ট। সালমান খানের ইশারা নিশ্চয়ই বুঝেছেন ক্যাটরিনা।

ওই সাক্ষাৎকারে বলিউডের অন্য দুই খান শাহরুখ খান ও আমির খান অভিনেতা না হলে কী হতেন, তা-ও জানতে চাওয়া হয় সালমান খানের কাছে। জবাবে সালমান জানান, শাহরুখ খান যেকোনো কিছুই হতে পারতেন। অর্থাৎ সালমানের মতে সবকিছু হওয়ার যোগ্যতা রাখেন শাহরুখ খান। আর আমির খান নাকি যা-ই হতেন, সেখানেই সেরা হতেন। অর্থাৎ যেকোনো পেশাতেই আমির খান তাঁর ‘মি পারফেকশনিস্ট’ সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতেন বলে সালমানের বিশ্বাস।

উপস্থাপক আরও জানতে চান, শাহরুখ নাকি আমির, কার রসবোধ বেশি? এক মুহূর্ত দেরি না করে সালমান বললেন, ‘অবশ্যই শাহরুখ।’ খানিক পরেই আবার সংশোধন করে বলেন, ‘না, আমি, আমি। আমার সেন্স অব হিউমার সবার চেয়ে ভালো।’

কমেডি নাকি অ্যাকশন, কোন ধরনের ছবি সালমানের পছন্দ? সালমান বলেন, তাঁর নাকি অ্যাকশন কমেডি পছন্দ। তবে শর্ত হলো, অ্যাকশনের সঙ্গে ইমোশন থাকতে হবে। আর কমেডি হলে হো হো করে হাসতে বাধ্য হবে দর্শক, এমন কমেডি। যদি দর্শক না-ই হাসে, তবে কমেডির কী মানে?

রূপপুর রূপকথা ও বালিশ–বৃত্তান্ত



কোনো জাতির ইতিহাস স্রোতস্বিনী নদীর মতো। সন-তারিখের দেয়াল তুলে তাকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা নির্বুদ্ধিতা। আমরা মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিলাম, ব্রিটিশ ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত এবং সবশেষে পাকিস্তানের অংশ ছিলাম, তা অস্বীকার করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

ষাটের দশকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান রূপপুর নামক এক অপরিচিত জনপদে ২৫০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন পারমাণবিক প্রকল্প গ্রহণ করেন। তাঁর সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম ফারুক ১৯৬৬-এর মে মাসে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে ৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। কানাডা ও জাপানের সঙ্গেও এই প্রকল্প নিয়ে আইয়ুব সরকার দেনদরবার করে এবং তাদের থেকে ঋণ পাওয়ার আশ্বাস পায়। স্বাধীনতার পর অনেক বছর এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করেন, বর্তমানে রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়ন করছেন। এই প্রকল্পের প্রণেতারা বহু জিনিস কেনাকাটাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেও, কর্মকর্তাদের শান্তিতে ঘুমানোর জন্য বিছানাপত্র, বিশেষ করে শয্যার বালিশ নিয়ে কিছু ভাবেননি। আর দশজন যে রকম বালিশে ঘুমায় তাঁরাও সে রকম বালিশেই মাথা রেখে এবং কোলবালিশ বুকে জড়িয়ে শান্তিতে ঘুমাবেন, তেমনটিই ছিল তাঁদের ধারণা।

বর্তমান সময়ের পৃথিবীর সম্ভবত সবচেয়ে দামি বালিশ পাওয়া যাবে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাটে। বিপ্লবপূর্ব রাশিয়ার জার কী রকম বালিশ ব্যবহার করতেন, তা মহামতি লেনিন বলতে পারতেন। বর্তমানে ব্রিটেনের রানি এবং জাপানের সম্রাটের ব্যবহৃত বালিশের মূল্যও আমাদের জানা নেই। সৌভাগ্যবশত আমি তিনজন মানব-মানবীর শয্যায় ব্যবহৃত বালিশ দেখার সুযোগ পেয়েছি। তাঁরা হলেন ইরানের শাহেনশাহ রেজা শাহ পাহলভি, তাঁর দ্বিতীয় বা তৃতীয় রানি ফারাহ দীবা এবং তাঁদের বিতাড়িত করে ইরানের ধর্মীয় ও সর্বময় রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিশেষ মুহূর্তে শাহেনশাহ ও রানি একই বিছানায় শুয়েছেন, কিন্তু তাঁদের শয্যা ছিল আলাদা। আয়াতুল্লাহ খোমেনি জীবনের শেষ ১০টি বছর যে ছোট ঘরে সাধারণ বিছানায় শুয়েছেন এবং যে বালিশে ঘুমিয়েছেন, তা রূপপুরের ভাগ্যবান কর্মকর্তারা কল্পনাও করতে পারবেন না। রূপপুরের এক বালিশের দামে কৌম নগরীর ১০ বালিশ কেনা সম্ভব। পারস্যের শেষ শাহের বালিশও দামের দিক থেকে রূপপুরের ধারেকাছে নয়। অবশ্য বিল গেটস কত দামের বালিশ ব্যবহার করেন, তা রূপপুরের ঠিকাদার ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা অনায়াসে জেনে নিতে পারেন।

বঙ্গীয় সমাজে মানুষ সারা জীবন সাধারণ বিছানায় ঘুমালেও জীবনে অন্তত একবার অপেক্ষাকৃত দামি বালিশ-তোশকে ঘুমায়, সেটা বাসরঘরের ফুলশয্যায়। ফুলশয্যার বালিশের গেলাফে যদি রঙিন ফুল তোলা থাকে, কারও কিছু বলার নেই। কিন্তু পারমাণবিক প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বালিশ-চাদর ফুলশয্যাকে ছাড়িয়ে গেলে আমাদের মৃদু আপত্তি।

যারা বালিশ সরবরাহ করেছেন তারা হয়তো ভেবেছেন পরমাণু কেন্দ্রের বড় বড় কর্মকর্তার ঘুমানোর বালিশ একটু বেশি আরামদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। তাঁর মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখার জন্য সুনিদ্রা হওয়া প্রয়োজন। বালিশের কারণে যদি ভালো ঘুম না হয়, ঘাড় ব্যথা করে, তাঁর কাজে ব্যাঘাত ঘটা বিচিত্র নয়। বিশ্বের বিভিন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের এত দামি বালিশে ঘুমানোর সৌভাগ্য হয়েছে বলে মনে হয় না।

একজন যত দামি বালিশে ঘুমাবেন, তত ভালো ঘুম হবে সন্দেহ নেই এবং শান্তিপূর্ণ ঘুমের মধ্যেই সুখস্বপ্ন দেখা সম্ভব। বালিশ সরবরাহকারীরা সম্ভবত কর্মকর্তাদের সুখস্বপ্ন দেখাতে চেয়েছেন। অবশ্য শুধু রূপপুর কেন, আমাদের পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে এক বঙ্গীয় বনপ্রভুর বাড়িতে বালিশের মধ্যে তুলার পরিবর্তে কড়কড়া ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট পাওয়া গিয়েছিল।

ঢাকায় সাবেক রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার নিকোলায়েভের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর দূতাবাসে গানবাজনা ও খানাপিনার আসরে দাওয়াত দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রুশ ও বাংলা ভাষার শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে এই পারমাণবিক প্রকল্পের প্রসঙ্গও পাড়তেন। যখন এই প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয়তা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা পরিবেশকর্মীরা বলছিলাম, তখন মি. নিকোলায়েভ ছিলেন এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কখনো এমনও হয়েছে যে তিনি তাঁর বলিষ্ঠ হাতখানা আমার শীর্ণ কাঁধে স্থাপন করে বলতেন: দোহাই ভাই, এসব কাজে বাধা দিসনে। আমি বলতাম, আমরা বকবক করেই যাব প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে, তোমার কাজ তুমি করো গিয়ে।

কথায় কথা আসে। এই বালিশ, চা বানানোর কেটলি, টিভি সেট প্রভৃতি প্রসঙ্গেই পারমাণবিক প্রকল্পের প্রসঙ্গ উঠল, তা না হলে এসব প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। ভুলি নাই শুধু চেরনোবিল ও জাপানে পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার কথা।

১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি পাকিস্তান সরকার আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সহযোগিতা নিয়ে পারমাণবিক শক্তি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। মাওলানা ভাসানী তার ঘোর বিরোধিতা করলেও একই দলের আরেক নেতা সোহরাওয়ার্দী করেন সাবলীলভাবে সমর্থন। তখন পাকিস্তানে আবদুস সালাম, নাজির আহমেদ ও আই এইচ উসমানী (ইশরাত হোসাইন উসমানী) পরমাণু বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছিলেন। সালাম ও উসমানী ছিলেন নেতৃত্বে। তাঁরা একটি বিশ্বমানের পরমাণু গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং আণবিক কর্মসূচির প্রকল্প প্রণয়ন করেন।

পাকিস্তানে তখন প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলছিল পুরোদমে। ঘন ঘন সরকার বদল হচ্ছিল। ১৯৫৬-৫৭ সালে আওয়ামী লীগ-রিপাবলিকান পার্টি কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হন আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাওয়ার্দী। তিনি সালাম ও উসমানীর পরমাণু পরিকল্পনা লুফে নেন। বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার আগেই সোহরাওয়ার্দী ক্ষমতাচ্যুত হন। বছরখানেক পরে প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন। তিনি গঠন করেন পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন।

১৯৬০ দশকে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে উসমানী পরমাণু গবেষণায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের এবং পরে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক উসমানীর ভাই। ১৯৮০ দশকের শেষ দিকে আমি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের কয়েক সপ্তাহের এক প্রশিক্ষণ শেষে তেহরান থেকে ঢাকা ফেরার পথে করাচি যাত্রাবিরতি করি। তখন মাহমুদুল হক উসমানীর আওয়ামী লীগ ও ন্যাপ সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। ইশরাত উসমানী ও আণবিক শক্তি কমিশনের বিষয়েও কথা হয়। তিনি বলেন, তাঁরা উত্তর প্রদেশের অধিবাসী। তাঁর ভাইয়ের লেখাপড়া আলীগড়ে ও বোম্বেতে, পরে লন্ডনে। প্রথম জীবনে ছিলেন ভারতে আইসিএস অফিসার। পাকিস্তানে তাঁরা মোহাজের।

একপর্যায়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে উসমানীর সম্পর্ক ভালো ছিল না। তিনি বিদেশে চলে যান। আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির চেয়ারম্যানও ছিলেন। ইরানের শাহেরও পরমাণুবিষয়ক পরামর্শদাতা ছিলেন। যে একটি কারণে তিনি আমাদের কাছে স্মরণীয় তা হলো, ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রদের ইউরোপ-আমেরিকায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বৃত্তি জোগাড় করে দেন। তিনি চাইতেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাঙালি বিজ্ঞানীদের দ্বারাই পরিচালিত হোক।

মূল পরিকল্পনায় ছিল রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র হবে একটি ‘বিশ্বমানের’ প্রতিষ্ঠান, যা পরিচালিত হবে বাঙালি বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের দ্বারা; বিদেশিদের দ্বারা নয়। সেখানে কেনাকাটায় দুর্নীতি হবে, তা কারও কল্পনায় ছিল না।

রূপপুরের বালিশ-বৃত্তান্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এ রকম হাজারো ঘটনা পাওয়া যাবে সরকারি প্রকল্পের কেনাকাটায়। আরব্য রজনীতে রয়েছে হাজার এক রাতের কাহিনি। ওই গল্পকারেরা আজ বেঁচে থাকলে যোগ করতে পারতেন হাজার দ্বিতীয় রাতের কল্পকাহিনির পরিবর্তে বাস্তব কাহিনি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক

প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজের সঙ্গে: কিশোর

‘পৃথিবীতে সুখ বলে’ গানটি নতুন করে গাইছেন, এমন ঘোষণা নিজের ফেসবুকে দিয়েছেন গায়ক ও সংগীত পরিচালক কিশোর। গানটির সূত্র ধরে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, এই ঈদে বেশ কয়েকটি গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। সমসাময়িক ব্যস্ততা ও গান নিয়ে পরিকল্পনার কথা বললেন প্রথম আলোর সঙ্গে।
পুরোনো সিনেমার গান নতুন করে গাইলেন কী মনে করে? 
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অনুপম রেকর্ডিং থেকে জীবন সংসার সিনেমার জনপ্রিয় এই গান গাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি আমারও ভীষণ প্রিয় গান। সিনেমায় প্রথম গানটি গেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমীন ও আগুন। ভালো লাগার এই গান নিতান্তই ভালোবাসা থেকে গেয়েছি। নতুন করে গানটির সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ রাজীব, সহশিল্পী নীলা নাজ।
ঈদে নিজের একক কোনো গান গাইছেন? 
তা তো গাইছি। ‘তোর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়’ শিরোনামের একটি গান গেয়েছি। স্যাড রোমান্টিক ধাঁচের এই গানের কথা ও সুর করেছেন ইথুন বাবু। নিজের গাওয়া গানের বাইরে আমার সুর-সংগীতে এবারের ঈদে আরও চারটি গান প্রকাশিত হবে। তিনটি একক ও একটি দ্বৈত। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ, আসিফ আকবর, ডলি সায়ন্তিনী ও ইমরান।
সমসাময়িক কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়? 
আমি নিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বেশি ভালোবাসি। পেশাদার সংগীতজীবনের শুরু থেকে নিজেকে তৈরি করেছি। যেমন নিত্যনতুনভাবে ভাঙা-গড়ার কাজও করেছি। কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হয় না, আবার সবাই প্রতিদ্বন্দ্বী।
অগ্রজদের মধ্যে কে আপনাকে অনুপ্রাণিত করে? 
অবশ্যই কুমার বিশ্বজিৎ। তিনি আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেন, উৎসাহও দেন। গানের প্রতি এখনো তাঁর সিনসিয়ারিটি, গানের প্রতি ধৈর্য, একাগ্রতা, খুঁতখুঁতে স্বভাব আমাকে বরাবরই বিস্মিত করে।
শেষ তিন প্রশ্ন
দ্বৈত গানে যে তিনজনকে সহশিল্পী হিসেবে চান? কেন চান? 
স্বতন্ত্র কণ্ঠের জন্য ন্যান্সি, বৈচিত্র্যময় কণ্ঠের জন্য কনা এবং আমার সব সময়ের প্রিয় সামিনা চৌধুরী। ভাগ্যক্রমে এই তিন শিল্পীর সঙ্গে চলচ্চিত্র এবং অডিও মাধ্যমে আমার গাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
সুযোগ পেলে নিজের যে অভ্যাসটা বদলাতে চান। 
আমাকে অনেকেই অলস বলে। সুযোগ পেলে নিজের আলসেমিটা দূর করতে চাই।
কার সঙ্গে এক মঞ্চে গাওয়ার স্বপ্ন দেখেন? 
স্বপ্ন যখন দেখব, ছোট কেন? আমি বিশ্বখ্যাত ব্রায়ান অ্যাডামসের সঙ্গে বিশ্বের বড় কোনো মঞ্চে গাইতে চাই। আমার সামনে থাকবে অগণিত দর্শক। ‘এভরিথিং আই ডু, আই ডু ইট ফর ইউ’।

ঈদে ওয়েবের জন্যও তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক


অনম বিশ্বাস পরিচালিত ধারাবাহিক গন কেস ও সৈকত নাসিরের ট্র্যাপড দেখা যাবে দুটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মেটেলিভিশনের মতো ইউটিউবেরও কয়েক বছর ধরে ঈদ উত্সব শুরু হয়েছে। ঈদকে ধরে অনেক নাটক ও টেলিছবি নির্মাণ হচ্ছে ইউটিউবের জন্য। আস্তে আস্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছে দর্শকেরা। আগ্রহও বাড়ছে এসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওয়েব সিরিজে। তাই আগামী ঈদকে ঘিরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য অনেক ওয়েব সিরিজ নির্মাণ হচ্ছে। বায়োস্কোপ, হইচই বাংলাদেশ, বঙ্গবিডি, সিনেস্পট, সিনেমাটিক ইত্যাদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ঈদে ওয়েব ধারাবাহিক বা সিরিজ নিয়ে আসছে।

তবে এই সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিডিও স্ট্রিমিং করে ওয়েব সিরিজ দেখতে হলে সাবস্ক্র্যাইব করে তা দেখতে হবে। এতে গ্রাহককে পয়সা গুনতে হবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন বা ট্যাবে সহজেই অ্যাপ ডাউনলোড করে ওয়েব সিরিজগুলো দেখা যাবে।


ঈদ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ‘হইচই বাংলাদেশ’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হবে মানি হানি নামের ১২ পর্বের একটি ওয়েব সিরিজ। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। ঈদের দিন ওয়েব সিরিজটি উঠবে। বাংলাদেশের একটি ব্যাংক ডাকাতির সত্য ঘটনাকে নাটকটির কাহিনি তৈরিতে কাজে লাগানো হয়েছে। এখানে অভিনয় করেছেন শ্যামল মওলা, মোস্তাফিজুর রহমান, লুত্ফর রহমান জর্জ, সুমন আনোয়ার, নিশাত প্রিয়ম।

হইচই বাংলাদেশ অংশের বিজনেস প্রধান সাকিব আর খান বলেন, ‘এবারই প্রথম আমরা ‘হইচই বাংলাদেশ’ থেকে এ ধরনের বাংলা ওয়েব সিরিজ প্রকাশ করতে যাচ্ছি। সময়টা ঈদের উত্সবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি দর্শকের আগ্রহ একটু একটু করে বাড়ছে। ঈদ উত্সবে সেই আগ্রহটা আরও বাড়তে পারে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আস্তে আস্তে অনলাইন বাজার অনেক বড় হচ্ছে। একসময় ইউটিউবে নাটক–সিনেমা ছিল না। এখন বাড়ছে। যদিও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং করে কনটেন্ট দেখতে পয়সা খরচ হচ্ছে, তারপরেও ভালো মানের কনটেন্ট এখানে থাকছে। তাই আশা করছি, ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বড় বাজার হবে বাংলাদেশে।’

এদিকে ঈদের আগের দিন থেকে পর্যায়ক্রমে সিনেস্পট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১২ পর্বের ওয়েব সিরিজ উঠবে। সৈকত নাসির পরিচালিত সিরিজটির নাম ট্র্যাপড। এখানে অভিনয় করেছেন আইরিন, রিও, এ কে আজাদসহ ইন্দোনেশিয়ার কয়েকজন অভিনয়শিল্পী। ইনোভেটিভ সলিউশনের প্ল্যাটফর্ম এটি। এর পরিচালক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ঈদে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এবারই প্রথম ওয়েব সিরিজ নিয়ে আসছি আমরা। যেহেতু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট দেখতে পয়সা খরচ হয়, তাই টেলিভিশন ও ইউটিউবের চেয়ে এখানকার কনটেন্টগুলো বেশি বাজেটের, ভালো মানের তৈরি করতে হয়। ভালো জিনিসের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহও বেশি। ফলে আগামী দিনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের একটা বড় বাজার তৈরি বেশ সম্ভাবনা আছে।’

ঈদ উপলক্ষে অনন্য মামুন পরিচালিত ধোঁকা নামে ১২ পর্বের ওয়েব সিরিজ উঠবে আরেকটি প্ল্যাটফর্ম সিনেমাটিকে।

বঙ্গবিডির প্রযোজনায় নির্মিত ৭ পর্বের ওয়েব সিরিজ গন কেস উঠবে বায়োস্কোপে। অনম বিশ্বাস পরিচালিত এ সিরিজে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও সাফা কবির। এবারই প্রথম বঙ্গবিডির আয়োজনে ঈদের উত্সবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবিডির পরিচালক মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন তো ইউটিউবেও ঈদের আয়োজন থাকে। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য ঈদের সময় ওয়েব সিরিজ প্রকাশ করছি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য আমাদের প্রথম ওয়েব সিরিজ এটি। তাই একটি বড় উত্সবের মধ্য দিয়ে আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।’

এই পরিচালক জানিয়েছেন ঈদের জন্য পাফ ড্যাডি নামে ১০ পর্বের আরেকটি ওয়েব সিরিজের শুটিং চলছে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই সিরিজে অভিনয় করছেন আজাদ আবুল কালাম, সজল ও পরীমনি।