মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯

এক বছর থেমে আছে আলী আমজদের ঘড়ির কাটা



ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি প্রায় এক বছর ধরে বিকল। রোববার বিকেলে সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায়। ছবি: প্রথম আলোচাঁদনী ঘাটের সিঁড়ি/ আলী আমজদের ঘড়ি/ জিতু মিয়ার বাড়ি/ বঙ্কু বাবুর দাঁড়ি। এমন একটি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি সিলেট অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। এর মাধ্যমে সিলেটের পরিচিতি-সূচক চারটি ঐতিহ্য তুলে ধরতেন আগেকার মানুষেরা।

বঙ্কু বাবু মারা গেছেন সেই কবে। বাকি তিনটি ঐতিহ্য এখনো টিকে রয়েছে। এর মধ্যে আলী আমজদের ঘড়ির বয়স হয়েছে ১৪৫ বছর। এক বছর ধরে ঘড়িটি বিকল। ঘড়ির কাঁটা সচল করতে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই।


সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আলী আমজদের ঘড়ি সিলেটবাসীর কাছে এখন ঐতিহ্যবাহী একটি স্থাপনা। অনেক পর্যটকও এখন এটি দেখতে আসেন। অথচ এক বছর ধরে ঘড়ির কাঁটা থমকে আছে। ঐতিহ্যবাহী এ ঘড়ির কাঁটা শিগগিরই সচল করা হোক, এটি আমাদের দাবি।’

নগরের কিনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর পাড় আর সারদা হলের মাঝখানে শহরের ‘জিরো’ পয়েন্ট। তার ঠিক ১০০ মিটারের মধ্যেই আলী আমজদের ঘড়ির অবস্থান। কিনব্রিজ পার হয়ে শহরের উত্তর অংশের ঠিক প্রবেশমুখে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা এ ঘড়ি স্থাপিত হয় ১৮৭৪ সালে। ওই বছর তৎকালীন বড়লাট লর্ড নর্থব্রুক সিলেট সফরে এসেছিলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার নবাব আলী আহমদ খান ঘড়িটি নির্মাণ করেন। নামকরণ করেন নিজের ছেলে আলী আমজদ খানের নামে। ভারতের দিল্লির চাঁদনী চক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নবাব ঘড়িটি স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন।

ঘড়িটির দেখভাল করার দায়িত্বে আছে সিলেট সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা গেছে, আলী আমজদের ঘড়ির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি। নিচ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ১৩ ফুট, ছাদ থেকে ঘড়ি অংশের উচ্চতা ৭ ফুট, ঘড়ির ওপরের অংশের উচ্চতা ৬ ফুট। মোট উচ্চতা ২৬ ফুট। ঘড়িটির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। তখনকার সময়ে এখানকার মানুষ সাধারণ সূর্যের আলো দেখেই সময় আন্দাজ করে নিতেন। ঘড়িটি চালু হওয়ার পর সময় জানার জন্য এটিই হয়ে ওঠে অনেকের অবলম্বন।

লোহার খুঁটির ওপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির এই ঘড়ি। এই নান্দনিক স্থাপনা যে কাউকে মুগ্ধ করে। এ ঘড়ি সিলেটের প্রতীক হিসেবে এখন দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা ঘড়িটি বিধ্বস্ত করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের পরে কিছুসংখ্যক প্রবাসী, আরও পরে তৎকালীন সিলেট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এটি সচল করতে উদ্যোগী হয়। বার কয়েক সংস্কার করা হলেও নানা সময়ে ঘড়িটি অচল হয়ে পড়ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশন ঘড়িটি পুনরায় সচল করে। এরপর দীর্ঘদিন ঘড়িটি সচল ছিল। কিন্তু গত বছর পুনরায় বিকল হয়ে ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘড়িটি নানা সময়ে সচল করার উদ্যোগ নিয়েছিল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঘড়িটি সংস্কার করে সচল করা হয়। এর ফলে পুনরায় ঘড়িটি সময় জানান দিতে থাকে। বছরখানেক আগে পুনরায় তা অচল হয়ে পড়ে। এখন আবার এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে এই উদ্যোগ নিতে সিটি করপোরেশনের বৈদ্যুতিক শাখাকে বলা হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮ ঘণ্টায় ১২ কেজি সোনা জব্দ



প্রতীকী ছবিহজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আট ঘণ্টার ব্যবধানে ১২ কেজি সোনার চালান জব্দ করা হয়েছে। দুটি পৃথক ঘটনায় এসব সোনার চালান জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুস সালাম, মোহাম্মদ শাকিল মোল্লা ও মাকসুদুর রহমান নামে বিদেশ ফেরত দুই যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুজনের কাছ থেকে জব্দ হওয়া সোনার মূল্য সোয়া ছয় কোটি টাকার বেশি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের উপপরিচালক অথেলো চৌধুরী বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটের যাত্রী আব্দুস সালামকে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর্চওয়ে মেশিনে তল্লাশি করা হলে সালামের প্যান্টের মধ্যে ধাতব পদার্থের সংকেত পাওয়া যায়। তাঁর পরনে প্যান্টে লুকানো সাদা রঙের স্কচটেপে মোড়ানো দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে এই দুটি প্যাকেট থেকে সোনার ১০৩টি বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১০০ গ্রাম।

কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সালাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি সোনার যেসব বার পাচার করে এনেছিলেন এর মালিক এইচ এম নুরুজ্জামান ওরফে জিকো নামে এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি ঢাকার খিলক্ষেতে। আব্দুস সালামের মুঠোফোনে নুরুজ্জামানের ছবি এবং পাসপোর্টের ছবিও পাওয়া যায়। বিমানবন্দরে কর্মরত কোনো এক সংস্থার এক কর্মকর্তার কাছে সোনা চালানটি দেওয়ার কথা ছিল। পরে ওই কর্মকর্তাই নুরুজ্জামানের কাছে সোনা হস্তান্তর করবেন বলে কথা ছিল। আব্দুস সালাম মে মাসে পাঁচবার সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করেছেন। আগেও বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তার মাধ্যমে সোনার চালান হস্তান্তর করেছেন। তবে যাত্রী বিমানবন্দরে কর্মরত ওই কর্মকর্তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি।


শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, আজ সকাল সাতটার দিকে ইউএস বাংলার এই ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন মাকসুদুর ও শাকিল মোল্লা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তল্লাশি করা হয়। প্রথম অস্বীকার করার পর এই দুই যাত্রীকে ব্যাপক তল্লাশি করা হয়। এ সময় মাকসুদুর ও শাকিল তাঁদের পায়ুপথে সোনার বার থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তাদের পায়ুপথ থেকে সোনার ২০টি বার উদ্ধার করা হয়। এসব সোনার বারের ওজন দুই কেজি ২৪৭ গ্রাম। এর মোট মূল্য এক কোটি ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

তিন যাত্রীর বিরুদ্ধে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শ্বশুরবাড়িতে শিকলে বেঁধে জামাইকে পিটুনি, কারাগারে স্ত্রী-শাশুড়ি




চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে শিকল দিয়ে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রী, শাশুড়ি ও মামাশ্বশুরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার জামাইয়ের নাম সোহরাব হোসেন (৩০)। তিনি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে। গত রোববার সন্ধ্যায় জীবননগর পৌর এলাকার হ্যালিপ্যাডপাড়ায় শ্বশুর হারেজ আলীর বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানের জন্য ঈদের পোশাক দিতে এসে ওই নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এদিকে জীবননগর থানার পুলিশ সোহরাব হোসেনের দায়ের করা মামলায় গতকাল সোমবার রাতে তাঁর (সোহরাবের) স্ত্রী নীলা খাতুন, শাশুড়ি মেহেরজান বেগম ও মামাশ্বশুর মসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ দুপুরে জীবননগর আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহরাব বলেন, কয়েক দিন আগে মুঠোফোনে ব্যালেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী নীলার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। নীলা ওই সময় হাতে আঘাত পেলে রাগ করে বাবার বাড়ি জীবননগরে চলে আসেন। সোহরাবের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানকে ঈদের জামাকাপড় দিতে জীবননগরে শ্বশুরবাড়িতে এলে মামাশ্বশুর মসলেম উদ্দিন অকথ্য গালাগালি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই দিন সন্ধ্যা থেকে বাড়ির বাইরে বাঁশের মাচার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। সারা রাত তাঁকে বাঁশের মাচায় বেঁধে রেখে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে বাড়ির ভেতরে উঠানে কাঁঠালগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। বেঁধে রাখা সময়ে স্ত্রী ও শাশুড়ির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মামাশ্বশুর মারপিট করেন।

সোহরাব বলেন, ‘বিষয়টি জানাজানি হলে জীবননগর থানার পুলিশ গতকাল রাতে আমাকে উদ্ধার করে।’

অভিযুক্ত মামাশ্বশুর মসলেম উদ্দিন জীবননগর থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের জানান, ভাগনিকে মারপিট করার ঘটনায় রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ভাগনিজামাই সোহরাবকে বকাঝকা করা হয়। তিনি যাতে আত্মগোপনে থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে মিথ্যা গুমের মামলা দিতে না পারেন, সে জন্য তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে (সোহরাবের) বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই পুলিশ চলে আসে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি মিয়া জানান, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শিকলবন্দী জামাই সোহরাব হোসেনের ছবি প্রকাশের পরপরই তাঁকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়। বেআইনিভাবে আটক ও মারধরের অভিযোগে নির্যাতিত সোহরাবের দায়ের করা মামলায় তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি ও মামাশ্বশুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নেইমার-এমবাপ্পে, কাউকেই লাগবে না রিয়ালের!



এই দুজনের রিয়ালে আসা-না আসা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হচ্ছে। ছবি : এএফপি


নেইমার কি পিএসজি ছেড়ে রিয়ালে আসবেন? নাকি নেইমারকে না নিয়ে এমবাপ্পেকে নেবে রিয়াল? নাকি দুজনই আসবেন রিয়ালে? খোলাসা করলেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই যে গুঞ্জনের শুরু, সেটি যেন আর থামতেই চাচ্ছে না। পর্তুগিজ তারকার জায়গায় কোনো মহাতারকাকে দলে ভেড়ায়নি রিয়াল। আস্থা রেখেছে ঘরের ছেলেদের ওপরই। কিন্তু তাতে দলবদল বাজারের গুঞ্জন থামবে কেন? কিলিয়ান এমবাপ্পে, নেইমারের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রতিনিয়তই রিয়ালের নাম আসছে। কিন্তু তাঁদের দলে আনার ব্যাপারে রিয়াল কতটুকু আগ্রহী? রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নিজেই জানিয়েছেন সেটি।


স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ওনদা সেরোকে গতকাল এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রিয়াল সভাপতি। সে সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। দলে নতুন কে আসছেন, কে রিয়াল ছাড়তে চাইছেন, রিয়ালের পরিকল্পনা ইত্যাদি। সেখানেই এমবাপ্পে আর নেইমারের ব্যাপারে মুখ খুলেছেন পেরেজ। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার বা এমবাপ্পে, কারওর ব্যাপারে আগ্রহ নেই রিয়ালের! দলের কোচ জিনেদিন জিদানের সঙ্গে দুই পিএসজি তারকাকে নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি, জানিয়েছেন পেরেজ, ‘জিদানের সঙ্গে আমি নেইমার বা এমবাপ্পে, কাউকে নিয়েই কথা বলিনি। এমনকি অন্য কারওর সঙ্গেও আমার ওদের ব্যাপারে কথা হয়নি। এমবাপ্পে ও নেইমারের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমার মনেও হয় না দলবদল নিয়ে ওদের সঙ্গে আমি কোনো কথা বলব ভবিষ্যতে। আমি গত বছরও এই কথা বলেছিলাম। এখনো বলছি। ওদের দরকার নেই রিয়ালের। কোনো খেলোয়াড়কে যদি আমরা চাই, আমরা সরাসরি সে খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে কথা বলব।’

শুরু থেকেই রোনালদোর উত্তরসূরি হিসেবে এ দুজনের নাম বারবার ঘুরেফিরে আসছে। কাকতালীয়ভাবে দুজনই এক ক্লাবে খেলেন— পিএসজিতে। পিএসজি এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় শক্তি, ফলে তাদের কাছ থেকে বড় কোনো তারকাকে আনতে হলে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে রিয়ালকে। খসাতে হবে বিপুল অর্থ। সে কথা জানেন দেখেই কি না, এখন এই দুজনের ব্যাপারে কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না পেরেজ।

এখন পেরেজের কথায় নেইমার ও এমবাপ্পেকে নিয়ে দলবদলের গুঞ্জন থামলেই হয়!

ধনীরা কি পৃথিবী বদলে দিতে পারেন?


গত সপ্তাহে আটলান্টার মোরহাউস কলেজের বর্ষশেষ গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। রবার্ট স্মিথ নামের এক বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল অনুষ্ঠানের মুখ্য বক্তা হিসেবে। তিনি আমেরিকার সবচেয়ে ধনাঢ্য কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। জনসেবার জন্য আগে থেকেই তাঁর খ্যাতি রয়েছে। রবার্ট স্মিথ কাউকে কোনো আগাম আভাস না দিয়ে ভাষণের একদম শেষ পর্যায়ে ঘোষণা করেন, ২০১৯ সালে যাঁরা এই কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে বেরোচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অপরিশোধিত শিক্ষাঋণ তিনি শোধ করে দেবেন।

রবার্ট স্মিথ কী বলছেন, সে কথার মানে বুঝতেই অনেকের কয়েক মিনিট চলে গেল। দু-চার ডলার নয়, প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর ৪০ মিলিয়ন ডলার ঋণ এক কথায় মাফ! যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়ার ব্যয় সহজসাধ্য নয়। চার বছর কলেজে পড়ার জন্য কোনো কোনো শিক্ষার্থীর এক লাখ ডলার বা তার চেয়ে বেশি অর্থ ঋণ করা আছে। কেউ কেউ শিক্ষাজীবন শেষ করার অনেক পরেও ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াতে বাধ্য হন। একজন ভীষণ ধনাঢ্য ব্যক্তি, যাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার, তিনি কী অনায়াসে এই শিক্ষার্থীদের অনেকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেন।

কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের ধনবান ব্যক্তিরা নামজাদা দাতা হয়ে উঠেছেন। বিল গেটস থেকে ওয়ারেন বাফেট, ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ থেকে আমাজনের জেফ বেজোস—এঁরা সবাই যেন একধরনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন কে কার চেয়ে কত বেশি অর্থ বিলিয়ে দেবেন। বিল গেটস তো বলেই বসেছেন, তিনি জীবনে যে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামিয়েছেন, সব বিলিয়ে দেবেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। এ পর্যন্ত যে অর্থ তিনি দান করেছেন, তার পরিমাণ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সব দেশেই ধনীরা কম–বেশি অর্থ দান করেন। কেউ করেন পরজন্মে পুণ্যের লোভে, কেউ করেন জীবদ্দশায় নাম কামাতে, কেউবা দান করেন কর মওকুফ পাওয়া যায়, এই ভাবনা থেকে। এমন লোকও আছেন, যাঁরা নাম কামালে আরও বেশি অর্থ কামানো যায়—এই ভাবনা থেকে দান করেন।

অর্থ বিলানোর কাজটা ভালো না মন্দ, এই নিয়ে এক পুরোনো বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছেন নিউইয়র্ক টাইমস–এর সাবেক সাংবাদিক আনন্দ গিরিধরদাস। উইনার্স টেক অলনামের এক গ্রন্থে তিনি দাবি করেছেন, দানছত্র খোলার নামে অতি ধনীরা যে কাণ্ড করছেন, তা আসলে একধরনের ব্যঙ্গ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁরা কেউই খুব সৎপথে অর্থ উপার্জন করেননি। তাঁরা নিজেরাই প্রভাব ও অর্থ খাটিয়ে এমন এক ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁদের কোটিপতি, বহু কোটিপতি হতে সাহায্য করেছে। এখন তাঁরাই আবার পৃথিবী বদলের কাজে নেমেছেন, যার লক্ষ্য একটাই—পৃথিবী বদলানো নয়, যে সুবিধা তাঁরা এত দিন ভোগ করে এসেছেন, তা টিকিয়ে রাখা। গিরিধরদাসের যুক্তি অনুসারে, চলতি ভোগবাদী ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা হলো সম্পদের অসম বণ্টন ও অব্যাহত বৈষম্য। ধনীরা কিছু টাকা ছড়ালে তাঁদের যেমন সম্পদ কমে না, তেমনি বিশ্বজোড়া বৈষম্যেরও কোনো তারতম্য হয় না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পদ সৃষ্টির প্রধান হাতিয়ার হলো মুনাফা। শ্রমিকদের ও ভোক্তাদের না ঠকালে মুনাফা হয় না। ফলে যে চোরাপথে তাঁরা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, সেই একই ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাঁরা কী করে অসাম্য কমাবেন?

তাহলে কি অতি ধনীরা নিজেদের ধন দান করে উল্টো বিপদ ডেকে আনছেন?

কিছুটা আনছেন তো বটেই। তাঁরা নিজেরাই ঠিক করছেন কীভাবে তাঁদের দান করা অর্থ ব্যয় হবে। অনেকটা আমেরিকার দেওয়া ‘ফরেইন এইডের’ মতো—কোথায় কোন খাতে কীভাবে অনুদানের অর্থ ব্যয় হবে, তার যাবতীয় শর্ত মেনে নিলে তবেই সে অনুদান মিলবে। দেখা গেছে, অতি ধনী দাতাদের প্রদত্ত অর্থের প্রায় ৬০ শতাংশ যাচ্ছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশের সিংহভাগ শিক্ষা ক্ষেত্রে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতি ধনীরা নিজেরা যেসব কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, যার বেশির ভাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন, সেখানেই টাকা ছড়াচ্ছেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনিতেই সম্পদশালী, তাদের একটা বড় কাজ চলতি অসাম্যের ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার পক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তি খাড়া করা। আর সেই সব বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত অর্থ ঢালা হচ্ছে, তা–ও সরকারিভাবে কর মওকুফের সুযোগ ব্যবহার করে। বিল ক্লিনটনের সাবেক শ্রমমন্ত্রী রবার্ট রাইশ মন্তব্য করেছেন, দান–খয়রাতের নামে ধনীরা যে কাণ্ড করছেন, তা আসলে ন্যায্য কর দেওয়া থেকে নিস্তার পাওয়ার একটা সহজ পথ ছাড়া আর কিছু নয়।

আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো এ কথার সেরা উদাহরণ। তিনি দান-ধ্যান করবেন বলে এক ফাউন্ডেশন খুলে বসেছিলেন। আর সে ফাউন্ডেশন থেকে তিনি করমুক্ত যে অর্থ সংগ্রহ করেন—কিছু নিজের, অধিকাংশই অন্যের—তার অধিকাংশই ব্যয় হয় নিজের পোষা প্রকল্পের সমর্থনে। এমনকি তিনি নিজের পোর্ট্রেট কেনার জন্যও এই ফাউন্ডেশনের হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন। তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোনোর অবস্থা শুরু হলে সে ফাউন্ডেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের দাতব্য সংস্কৃতির অবস্থা খুব যে ভিন্ন, তা নয়। একটা সময় ছিল যখন রাজা-বাদশাহ-জোতদার-জমিদার দান-ধ্যানের নামে মসজিদ–মন্দির বানিয়েছেন, কেউ কেউ পাঠাগার বা বিদ্যালয়। এত দিন পরে আমরা সবাই ভুলে গেছি কী প্রবল অত্যাচারী ছিলেন সেই ক্ষমতাবানেরা অথবা খাজনা আদায় করতে কীভাবে লাঠিয়ালদের ব্যবহার করেছেন। তাজমহলকে মনে রেখেছি, কিন্তু যে ২০-২২ হাজার শ্রমিকের রক্তে ও অশ্রুতে সে স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ, তাঁদের কথা মনে রাখিনি, তাঁদের নামও আমরা জানি না। সাম্প্রতিক সময়ে যে এই অবস্থা বদলেছে, তা মনে হয় না। এখন যাঁরা দান-খয়রাত করে নাম করেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই হয় ঋণখেলাপি, নয়তো বাঁকা পথে সম্পদ বানিয়েছেন। তাঁরা সবাই চাইছেন কিছু টাকা ছড়িয়ে গায়ের ময়লা দাগ কিছুটা হলেও ধুয়ে ফেলতে।

তাহলে ধনীরা তাঁদের সম্পদ নিজেরাই ভোগ করুন, কোনো সামাজিক কাজে ব্যয় না করুন, সেটাই অধিক যুক্তিপূর্ণ? যাঁরা অতি ধনীদের বদান্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা কেউই সে কথা বলেন না। তাঁরা শুধু বলছেন সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্য হওয়া উচিত হাতে ব্যান্ড এইড লাগিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ নয়, রক্তক্ষরণের কারণকে আঘাত করা। সামাজিক বৈষম্য ও বণ্টনের অসাম্য টিকিয়ে রেখে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। রবার্ট স্মিথ মোরহাউস কলেজের ৪০০ শিক্ষার্থীর অবস্থা বদলাতে সাহায্য করেছেন ঠিকই, কিন্তু যে অসম শিক্ষাব্যবস্থার কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ঋণের ভারে নুইয়ে রয়েছেন অথবা আগামী দিনে যাঁরা এই বোঝা মাথায় তুলে নেবেন, তাঁদের কী হবে? আসলে ধনীরা কাকের জন্য ভাত ছড়ালে দুই-চারজনের সুবিধা হয়তো হয়, কিন্তু অসাম্যের কাঠামোগত চরিত্র কখনোই বদলায় না। পৃথিবীও বদলায় না।

ধনীরা নিজেরাই এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনবেন, এ কথা কেউ বলে না। তেমন আশা করাও অন্যায়। ধনীরা যদি সত্যি পরিবর্তন চান, ন্যূনতম যে কাজটি তাঁরা করতে পারেন তা হলো নিজেরাই নিজেদের সম্পদের পুনর্বণ্টনের দায়িত্ব না নিয়ে সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া। তাঁরা যদি নিজেদের ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারকে প্রাধান্য না দিয়ে সাধারণ কল্যাণের বড় ছবিটা মাথায় রাখেন, তাহলে অল্পবিস্তর ভালো কাজ নিশ্চয় অর্জন সম্ভব। এ জন্য প্রথম কাজই হবে যাঁদের জন্য এই দান, তাঁদের সে কাজে যুক্ত করা। গ্রামে যদি একটা রাস্তা বানানোর জন্য দান আসে, তাহলে সে রাস্তা কোন দিক দিয়ে গেলে ভালো হয়, এ কথা গ্রামের মানুষের চেয়ে ভালো আর কে জানবে?

হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি

এবার ৪১তম বিসিএস, পদ ২ হাজার ১৩৫


চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য আসছে আরও একটি বিসিএস। এটি হবে ৪১তম বিসিএস। এই বিসিএস হবে সাধারণ (জেনারেল)। এই বিসিএসে নেওয়া হবে ২ হাজার ১৩৫ জনকে।

৪১তম বিসিএসের বিষয়ে চাহিদাপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হয়েছে। এখন সুবিধাজনক সময়ে পিএসসি এই বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসি নির্দেশনা পেয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চাহিদাপত্র তারা হাতে পেয়েছে। এই বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষাতে প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেওয়া হবে।

শিক্ষার পরে বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

পুলিশে ১০০, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জনকে নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাব রক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেওয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।

সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে।

বিসিএসের বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪১তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৪১তম বিসিএস বিশেষ হবে না উল্লেখ করে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, অনেকে ধারণা করেছিলেন ৪১তম বিসিএস বিশেষ হবে, কিন্তু সেটি হচ্ছে না।
কবে নাগাদ এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘আমাদের হাতে কয়েকটি বিসিএসের কাজ আছে। এগুলো শেষ করে এ বছরে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।’

পিএসসির চেয়ারম্যান জানান, ৪১তম বিসিএসে ২ হাজার ১৩৫ জনকে (ক্যাডার) নেওয়া হবে। তবে একেকটি বিসিএস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রার্থী নন–ক্যাডারে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ভালো ভালো পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। সেই হিসাবে, একেকটি বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করলে নিশ্চিত চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

৪০তম বিসিএসের জন্য গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ৪০তম বিসিএসের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। এতে আবেদন করেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৩ মে। এতে প্রায় ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এই বিসিএসে মোট ১ হাজার ৯০৩ জন ক্যাডার নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

স্প্যাম মেইলে ১০ লাখ ডলার

যাঁরা ই–মেইল ব্যবহার করেন, তাঁরা জানেন, মাঝেমধ্যেই ‘আপনি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জিতেছেন’ বা ‘লটারি জিতেছেন–জাতীয় ই–মেইল এসে থাকে। এসব যে ধাপ্পাবাজি বা হ্যাকার-প্রতারক চক্রের পাতা ফাঁদ—ব্যবহারকারীরা এত দিনে তা বুঝে গেছেন। অনেক সময় কোম্পানির প্রচারণা বিজ্ঞাপনের অংশ হয় এগুলো। এসব ই–মেইলকে ‘স্প্যাম’ বলা হয়। সম্প্রতি এ রকম এক স্প্যাম ই–মেইল খুলে ভাগ্যই খুলে গেছে মার্ক লিচফিল্ড নামের এক ব্যক্তির।

লিচফিল্ডের ইয়াহু মেইলে হঠাৎ একদিন ই–মেইল আসে, তিনি ১৫ লাখ ডলার অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন। মেইলটি খোদ ইয়াহু কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছে। এতে লেখা ছিল, ‘আমরা আপনাকে কিছু অর্থ দেব। আপনি কি তা চান?’ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ওয়েবসাইটেএকটি ‘বাগ’ ধরে দেওয়ায় পুরস্কারটি দিচ্ছে তারা

ইয়াহুসহ এখন সব বড় অনলাইন-জায়ান্টরা তাদের ওয়েব কোডে ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারলে এমন অর্থ পুরস্কার দিয়ে থাকে। এসব ত্রুটিকে ‘বাগ’ বলে।

লিচফিল্ড বলেন, তিনি ওই ত্রুটি ধরে দেওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। কাজটি নিতান্তই স্বেচ্ছাসেবকের মতো করেছিলেন তিনি। লিচফিল্ড বলেন, যে কেউই কাজটি করতে পারেন। এর জন্য কোডিং জ্ঞানও থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তিনি নিজেও কোডিং পারেন না।